জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের মরদেহ উত্তোলন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক প্রটোকল মেনে মরদেহ উত্তোলন করা হবে।
সিআইডি প্রধান বলেন, জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার মাধ্যমে আর্জেন্টিনা থেকে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ লুইস ফন্ডিব্রাইডার ঢাকায় এসে পুরো কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি গত ৪০ বছরে ৬৫টি দেশে একই ধরনের অপারেশন পরিচালনা করেছেন।
সিআইডি প্রধান বলেন, আবেদন অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে ১১৪টি কবর চিহ্নিত হয়েছে, যা বাস্তবে কমবেশি হতে পারে। মরদেহ উত্তোলনের পর পোস্টমর্টেম, বোন স্যাম্পল/টিস্যু সংগ্রহ, ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি করা হবে।
শহীদদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে সিআইডি প্রধান বলেন, অনেক বাবা-মা, ভাই-বোন বছর ধরে ঘুরে বেড়িয়েছেন তাদের আপনজনদের পরিচয় জানার জন্য। আমরা এই বেদনার দায় থেকে দেশকে মুক্ত করতে চাই।
ইউনাইটেড নেশনস হাইকমিশনার ফর হিউম্যান রাইটস (ইউএনএইচআর) আর্জেন্টিনার আন্তর্জাতিক ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ লুইস ফন্ডিব্রাইডার বলেন, আমি গত তিন মাস ধরে সিআইডির সঙ্গে কাজ করছি। আন্তর্জাতিক মানের এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। আমি গ্যারান্টি দিচ্ছি এই কাজ আন্তর্জাতিক ফরেন্সিক মানদণ্ড অনুসরণ করে করা হবে।
এই কার্যক্রমের মাধ্যমে শহীদদের পরিচয় নিশ্চিত করা হবে। পরিচয় নিশ্চিত হলে ধর্মীয় সম্মান বজায় রেখে আবার পুনঃদাফন করা হবে। এই কার্যক্রম শেষ হলে শহীদদের পরিবারের সদস্যদের বেদনা কিছুটা কমবে।
সরকার এই কার্যক্রমের জন্য সব ধরনের সহযোগিতা করছে। সিআইডি, সিটি করপোরেশন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ, ডিএমপি, বিভাগীয় কমিশনারসহ সব স্টেকহোল্ডারকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এই কার্যক্রম সফল হলে শহীদদের পরিবারের সদস্যদের বেদনা কিছুটা কমবে।



