দেশের দুটি প্রধান কারাগার, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার এবং কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে অবৈধভাবে মুঠোফোন ব্যবহার করা হচ্ছে। এই দুটি কারাগারে প্রভাবশালী ও দুর্ধর্ষ বন্দীরা বেশি, এবং এখানে কঠোর নিরাপত্তা ও নজরদারি থাকার কথা। কিন্তু এই দুটি কারাগারের অনেক বন্দী অবৈধভাবে মুঠোফোন ব্যবহার করে বাইরের মাদক কারবার, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করছে।
পুলিশের বিশেষ শাখার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনটি অন্তর্বর্তী সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরকেও দেওয়া হয়েছে। এই প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, দেশের অন্যতম প্রধান এই দুটি কারাগারের বন্দীরা অবৈধভাবে অন্তত ৩৬০টি মুঠোফোন নম্বর ব্যবহার করছেন। এর মধ্যে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ৭৯টি ও কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে ২৮১টি মুঠোফোন নম্বর ব্যবহার হচ্ছে।
কারাগারে মুঠোফোন পাচার করা হয় বিভিন্ন উপায়ে। শরীরের বিভিন্ন অংশে লুকিয়ে বা নানা কৌশলে খুবই ছোট আকারের কিছু ফোন ভেতরে ঢুকছে। একশ্রেণির অসাধু কারারক্ষী এবং পুরোনো কিছু বন্দী এই চক্রের সঙ্গে জড়িত। টাকার বিনিময়ে কেউ কেউ সার্বক্ষণিক মুঠোফোন রাখছেন। আবার কেউ কেউ যখন চান, তখনই বাইরে মুঠোফোনে কথা বলতে পারেন।
কারাগারে সরাসরি নগদ টাকা ব্যবহারের সুযোগ নেই। এ জন্য কারাগারের পুরুষ সেলগুলোতে বিভিন্ন অবৈধ কাজে সিগারেটের প্যাকেটকে মুদ্রার মতো করে ব্যবহার করা হয়। সেখানে হলিউড সিগারেটের প্যাকেট ১৬০ টাকা, গোল্ডলিফ ৩০০ টাকা এবং বেনসন ৪০০ টাকা হিসেবে ব্যবহার হয়। পিসির মাধ্যমে সিগারেট কিনে পরে এগুলো না খেয়ে অবৈধ সুবিধার জন্য কারারক্ষী ও সেলের দায়িত্বে থাকা বন্দীদের দেন।
কারা মহাপরিদর্শক গতকাল শনিবার প্রথম আলোকে বলেছেন, লেনদেনের মাধ্যম হিসেবে সিগারেটের ব্যবহার বন্ধে উচ্চ মূল্যের সিগারেট বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এসবির প্রতিবেদনে বলা হয়, কিছু অসাধু কারা সদস্যের যোগসাজশ রয়েছে কারাগারকে মুঠোফোনে অপরাধ ও অরাজকতা নিয়ন্ত্রণের নিরাপদ স্থান হিসেবে তৈরির পেছনে।
কাশিমপুর কারাগারে বন্দী থাকাবস্থায় এক আসামি তাঁর মামলার বাদীকে হত্যার হুমকিও দিয়েছিলেন। এ ঘটনায় ঢাকার একটি থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) হয়েছে। জামিনে বের হওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কারাগারে সরাসরি নগদ টাকা ব্যবহারের সুযোগ নেই। এ জন্য কারাগারের পুরুষ সেলগুলোতে বিভিন্ন অবৈধ কাজে সিগারেটের প্যাকেটকে মুদ্রার মতো করে ব্যবহার করা হয়।
এই ঘটনায় কারা কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। কারাগারে মুঠোফোন ব্যবহার রোধ করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কারাগারে নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনা কারাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর প্রশ্নচিহ্ন তুলেছে। কারাগারে মুঠোফোন ব্যবহার রোধ করার জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। কারাগারের নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য সরকার



