ডিসেম্বর মাস প্রায়শই বিজয়ের সাথে সম্পর্কিত। এই মাসে, বিশেষ করে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুতে, এক গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনা স্মরণ করা হয়। ১৮২৪ সালের ডিসেম্বরে, পেরুর স্বাধীনতা যুদ্ধের এক নির্ণায়ক মুহূর্ত ঘটে। এই যুদ্ধটি ‘আয়াকুচোর যুদ্ধ’ নামে পরিচিত, যা স্প্যানিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান ঘটায়।
পেরুর স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রায় ৩০০ বছর ধরে স্পেন এই অঞ্চল শাসন করে। কিন্তু সিমন বলিভারের নেতৃত্বে বিপ্লবী নেতারা মুক্তির জন্য সংগ্রাম করেন। তাঁর সেনাপতি অ্যান্তোনিও জোসে দে সুক্রে ১৮২৪ সালের ডিসেম্বরে আন্দিজ পর্বতমালার প্রায় ১১ হাজার ফুট উচ্চতায় আয়াকুচোর মালভূমিতে স্প্যানিশ বাহিনীর মুখোমুখি হন।
যুদ্ধক্ষেত্রটি ছিল অত্যন্ত দুর্গম। স্প্যানিশ ‘রয়্যালিস্ট’ বাহিনীর সৈন্য সংখ্যা ও অস্ত্রশস্ত্র ছিল অনেক বেশি। কিন্তু স্বাধীনতাকামী ‘প্যাট্রিয়ট’ বাহিনীর বুকে ছিল দেশমাতার মুক্তির শপথ। মাত্র কয়েক ঘণ্টার এক প্রচণ্ড ও কৌশলী যুদ্ধে জেনারেল সুক্রে স্প্যানিশ বাহিনীকে ধসিয়ে দেন। স্পেনের ভাইসরয় জোসে ডি লা সার্না আহত অবস্থায় বন্দী হন এবং যুদ্ধক্ষেত্রেই আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করতে বাধ্য হন।
এই বিজয় শুধু পেরুকে স্বাধীন করেনি, বরং এটি ছিল সমগ্র দক্ষিণ আমেরিকা থেকে স্প্যানিশ সাম্রাজ্যের বিদায়ঘণ্টা। আয়াকুচোর সেই প্রান্তর আজও লাতিন আমেরিকার মানুষের কাছে ‘স্বাধীনতার তীর্থস্থান’। পেরুর এই ইতিহাস আমাদের শেখায়, প্রতিপক্ষ যত শক্তিশালীই হোক না কেন, স্বাধীনতার স্বপ্নে বিভোর একটি জাতির সম্মিলিত ইচ্ছাশক্তির কাছে কোনো শৃঙ্খলই টিকতে পারে না।
বাংলাদেশের ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরের মতোই পেরুর এই বিজয় ছিল দীর্ঘ শোষণ আর বঞ্চনার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত জবাব। এই ঐতিহাসিক ঘটনা আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, স্বাধীনতা অর্জনের জন্য সংগ্রাম করা উচিত, এবং একটি জাতির ঐক্য ও সংহতি সব ধরনের শৃঙ্খল ভাঙ্গতে পারে।
পেরুর স্বাধীনতা যুদ্ধ আমাদেরকে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে স্বাধীনতা সংগ্রামের গুরুত্ব সম্পর্কে শিক্ষা দেয়। এটি আমাদেরকে বুঝতে সাহায্য করে যে, স্বাধীনতা অর্জনের জন্য সংগ্রাম করা উচিত, এবং একটি জাতির ঐক্য ও সংহতি সব ধরনের শৃঙ্খল ভাঙ্গতে পারে।



