বাংলাদেশের রপ্তানি খাত চার মাস ধরে কমছে। গত নভেম্বরে রপ্তানি হয়েছে ৩৮৯ কোটি ডলারের পণ্য। এ রপ্তানি গত বছরের নভেম্বরের তুলনায় ৫.৫৪ শতাংশ কম।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) পরিসংখ্যানে দেখা যায়, শীর্ষ পাঁচ খাতের মধ্যে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য ছাড়া বাকি খাতগুলোর রপ্তানি গত নভেম্বর মাসে কমেছে। এসব খাত হলো তৈরি পোশাক, পাট ও পাটজাত পণ্য, কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য ও হোম টেক্সটাইল।
ইপিবির পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত নভেম্বরে ৩১৪ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এ রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ শতাংশ কম। তবে চলতি বছরের পাঁচ মাসের হিসাবে পোশাক রপ্তানি এখনও ইতিবাচক রয়েছে।
দেশের তৃতীয় শীর্ষ রপ্তানি খাত কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাদ্য রপ্তানিতে ব্যাপক নিম্নগতি দেখা যাচ্ছে। গত মাসে রপ্তানি হয়েছে ৮ কোটি ২৮ লাখ ডলারের পণ্য। এ রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ কম।
পঞ্চম শীর্ষস্থানীয় রপ্তানি খাত হোম টেক্সটাইলের রপ্তানিও কমেছে। গত নভেম্বরে রপ্তানি হয়েছে ৬ কোটি ৬৩ লাখ ডলারের হোম টেক্সটাইল। এ রপ্তানি গত বছরের নভেম্বরের তুলনায় ৭.৭৫ শতাংশ কম।
এই রপ্তানি হ্রাসের কারণে দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এটি দেশের বাণিজ্য ঘাটতি বাড়াতে পারে এবং দেশের মুদ্রার মূল্য কমাতে পারে।
সুতরাং, সরকারকে রপ্তানি খাতকে উন্নয়নের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এতে রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতা বাড়ানো, রপ্তানি খাতের উৎপাদন খরচ কমানো এবং রপ্তানি খাতের গুণমান উন্নত করা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
এছাড়াও, সরকারকে রপ্তানি খাতের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য বিনিয়োগ করতে হবে। এতে বন্দর, রেলপথ এবং সড়কপথের উন্নয়ন অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
অবশেষে, সরকারকে রপ্তানি খাতের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ এবং সহায়তা প্রদান করতে হবে। এতে রপ্তানি খাতের কর্মীদের প্রশিক্ষণ, রপ্তানি খাতের উৎপাদন প্রক্রিয়ায় উন্নতি এবং রপ্তানি খাতের বাজারজাতকরণে সহায়তা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
এইভাবে, সরকার রপ্তানি খাতকে উন্নয়নের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিলে দেশের অর্থনীতি সুস্থ থাকবে এবং দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।



