ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাষ্ট্রীয় সফর শেষে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে বেশ কয়েকটি বিশেষ উপহার দিয়েছেন। এসব উপহারের মধ্যে ছিল সুগন্ধি আসামের ব্ল্যাক টি, কাশ্মীরি জাফরান, হাতে তৈরি রুপার ঘোড়া, নকশা করা রুপার চা-সেট এবং রুশ ভাষায় অনূদিত শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার একটি কপি।
প্রতিটি উপহারের পেছনেই রয়েছে আলাদা তাৎপর্য ও সাংস্কৃতিক বার্তা। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা হল মহাভারতের অংশ হিসেবে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কর্তব্য, আত্মা ও মোক্ষলাভ নিয়ে অর্জুনকে দেওয়া উপদেশ।
আসামের ব্ল্যাক টি হল উর্বর ব্রহ্মপুত্রের সমভূমিতে উৎপাদিত একটি সুগন্ধি চা। এটি সুগন্ধ, মাল্টি ফ্লেভার, উজ্জ্বল রং এবং ঐতিহ্যবাহী ‘আসামিকা’ প্রজাতির জন্য পরিচিত। ২০০৭ সালে জিআই ট্যাগ পাওয়া এই চা শুধু ঐতিহাসিক নয়, স্বাস্থ্যগত দিক থেকেও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
মুর্শিদাবাদের রুপার খোদাই করা টি-সেট হল জটিল নকশায় তৈরি একটি চা-সেট। এটি পশ্চিমবঙ্গের সমৃদ্ধ কারুশিল্পের নিদর্শন।
মহারাষ্ট্রের শিল্পীদের বানানো রুপার ঘোড়া হল ভারতীয় ও রুশ সংস্কৃতিতে মর্যাদা ও বীরত্বের পরিচায়ক। ঘোড়াটির গতিশীল ভঙ্গি ভারত-রাশিয়া সহযোগিতার অগ্রগতির প্রতীক হিসেবে ধরা হচ্ছে।
আগ্রার মার্বেল দাবার সেট হল হাতে বানানো মার্বেল বোর্ড। এটি আগ্রার ঐতিহ্যবাহী পাথর কারুকাজকে তুলে ধরে।
কাশ্মীরি জাফরান হল স্থানীয়ভাবে ‘কঙ’ নামেও পরিচিত। রং, সুগন্ধ ও স্বাদের জন্য এই জাফরান আন্তর্জাতিকভাবে সুপরিচিত। এটি ভারতীয় সংস্কৃতি ও রান্নায় বিশেষ স্থান দখল করে।
সাম্প্রতিক সফরে মোদি-পুতিন বৈঠকে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও অস্ত্র চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যৌথ সংবাদ সম্মেলনে পুতিন বলেন, ২০২৪ সালে দুই দেশের বাণিজ্য ৬ হাজার ৪০০ কোটি ডলার ছুঁয়েছে।
এই সফরের মাধ্যমে ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে সহযোগিতা আরও গভীর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও অস্ত্র চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এই সফরের ফলে ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।



