ভারতীয় রুপি বর্তমানে এশিয়ার সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রা। এটি চলতি বছর পর্যন্ত ৫.৩ শতাংশ অবমূল্যায়ন হয়েছে, যা ২০২২ সালের পর থেকে সবচেয়ে বড় বার্ষিক পতন। এই পতনের ফলে রুপি এশিয়ার সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রার অবস্থানে পৌঁছেছে।
ভারতীয় শেয়ারবাজারও সংকটের মধ্যে রয়েছে। ১৯৯৩ সালের পর এবারই প্রথম ভারতীয় স্টক মার্কেট বিশ্বের অন্যান্য বড় বাজারের তুলনায় সবচেয়ে পিছিয়ে পড়েছে। এমএসসিআই ইন্ডিয়া সূচকের ডলারভিত্তিক রিটার্ন ছিল মাত্র ২.৫ শতাংশ, যেখানে বৃহত্তর উদীয়মান বাজার সূচকে রিটার্ন দাঁড়িয়েছে ২৭.৭ শতাংশ।
ভারতীয় রুপির দুর্বলতা রপ্তানি খাতকে কিছুটা স্বস্তি দিলেও সামগ্রিকভাবে অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভারী শুল্কের কারণে রপ্তানিকারকরা আগে ক্ষতির মুখে পড়লেও মুদ্রার দরপতনে তারা সামান্য সুবিধা পাচ্ছে।
প্রযুক্তি খাতের শেয়ার দীর্ঘদিন ধরে সীমিত পরিসরে ছিল। সাম্প্রতিক সপ্তাহে কিছুটা উন্নতি দেখা গেলেও সার্বিক পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন নেই। এর ওপর চলতি হিসাবের ঘাটতি কমলেও পণ্য বাণিজ্যের ঘাটতি অক্টোবর মাসে রেকর্ড ৪১.৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
ভারতের প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ভি অনন্ত নাগেশ্বরন বলেন, রুপির দুর্বলতা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন নন। তাঁর দাবি, মুদ্রার অবমূল্যায়ন মুদ্রাস্ফীতিতে তেমন প্রভাব ফেলছে না এবং ২০২৬ সালে রুপি পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা রয়েছে।
এইচএসবিসির এশিয়া এফএক্স প্রধান জোয়ি চিউ বলেন, প্রতিদিন বাণিজ্য চুক্তি না হওয়ায় বাণিজ্য ঘাটতি ও বিদেশি মুদ্রার বহির্মুখী প্রবাহ ডলার-রুপি বিনিময় হার আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে, অথচ বৈদেশিক মুদ্রা সরবরাহ কমছে।
ভবিষ্যতে রুপির দুর্বলতা আরও বাড়তে পারে, যা জ্বালানি আমদানির ব্যয় বাড়াবে এবং বিদেশি ঋণের খরচও বাড়বে। এর প্রভাব পড়বে বিমান, ইলেকট্রনিকস, অটোমোবাইলসহ বিভিন্ন খাতের উৎপাদন ব্যয়ে। বিদেশ ভ্রমণ ও পড়াশোনার খরচও দ্রুত বাড়ছে।
ভারতীয় অর্থনীতির ওপর রুপির দুর্বলতার প্রভাব ক্রমশ বাড়ছে। এই পরিস্থিতি থেকে বের হতে ভারতীয় সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায়, রুপির দুর্বলতা ভারতীয় অর্থনীতিকে আরও দুর্বল করে দিতে পারে।



