দেশে হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধ বেড়েই চলেছে। প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১২টি হত্যাকাণ্ড ঘটছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বেসরকারি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী খুনের সংখ্যা প্রতিদিন দ্বিগুণ হারে বাড়ছে।
এসব নৃশংস খুনের সঙ্গে মাদক জড়িত বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন। তারা বলেন, মাদকাসক্তরা একজন মানুষ, তা-ও তারা ভুলে যায়। মাদকই তাদের জীবনের আনন্দ বিনোদনসহ সব অপকর্মের সঙ্গী।
সাম্প্রতিক সময়ে রংপুর থেকে ব্যবসায়ী আশরাফুলকে তার বন্ধু জরেজ মিয়া শনিরআখড়ায় বান্ধবীর বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে বান্ধবীসহ মিলে জরেজ মিয়া আশরাফুলকে হত্যা করে। এরপর লাশ ২৬ টুকরা করে ড্রামে ভর্তি করে হাইকোর্ট এলাকায় ফেলে যায়।
চাঁদপুর জেলায় কচুয়া উপজেলায় বাইচাড়া গ্রামে গত ২২ নভেম্বর পারিবারিক বিষয় নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আব্দুল খালেককে তার ছেলে মোহাম্মদ হোসাইন প্রকাশ্যে দা দিয়ে কুপিয়ে দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে ফেলে।
সম্প্রতি খুলনা মহানগর দায়রা জজ আদালতের প্রধান ফটকের সামনে হাসিব ও রাজন নামে দুই যুবককে গুলি করে হত্যা করা হয়। নিহত দুই জন এই এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী মাদক ব্যবসায়ী পলাশ গ্রুপের সদস্য। মাদক ব্যবসায়ে বিরোধ নিয়ে তাদের হত্যা করা হয় বলে জানা যায়।
পুলিশ সদর দপ্তরের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় বড়ুয়া এক শ্রেণির শিক্ষার্থী গ্রুপ করে মোবাইলে পর্নো দেখছে। এতে তারা আসক্ত হয়ে যাচ্ছে। তাদের মধ্যে বড় একটি অংশ আবার ইয়াবায় আসক্ত। লেখাপড়া বাদ দিয়ে তারা বিপথগামী হচ্ছে।
মনোরোগ চিকিত্সকদের মতে, শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি বড় অংশ মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছে। মাদকের এই ভয়াবহ অবস্থা চলতে থাকলে আগামীতে দেশ পরিচালনাসহ সব পেশায় যোগ্য ও মেধাবী লোকের তীব্র সংকট দেখা দেবে।
সর্বনাশা মাদককে রুখতে হলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিলে এই অপরাধের হার কমানো সম্ভব হবে।



