গাজায় ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী গোষ্ঠী হামাস বিরোধী মিলিশিয়া নেতা ইয়াসের আবু শাবাব নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি মিডিয়া বৃহস্পতিবার এ খবর নিশ্চিত করে জানিয়েছে। গাজায় হামাস-বিরোধী গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দেওয়ার যে চেষ্টা ইসরায়েল চালাচ্ছিল, শাবাবের মৃত্যুকে সে চেষ্টায় এক বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
দক্ষিণ গাজার রাফায় ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বসবাসকারী তারাবিন বেদুইন গোত্রের নেতা আবু শাবাব ওই অঞ্চলের বিশিষ্ট কয়েকটি ছোট হামাস-বিরোধী গোষ্ঠীর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। গাজায় দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের মধ্যে এসব গোষ্ঠীর উত্থান ঘটে। আবু শাবাবাকে ইসরায়েলের ‘সহযোগী’হিসাবে চিহ্নিত করেছিল হামাস। তাকে হত্যা কিংবা আটক করতে হামাস যোদ্ধাদেরকে নির্দেশ দিয়েছিল।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গত জুনে স্বীকার করেছিলেন যে, ইসরায়েল গাজার হামাস-বিরোধী গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র দিয়েছে, যদিও এর বিস্তারিত বেশিকিছু পরে আর প্রকাশ করেনি ইসরায়েল। গাজায় অক্টোবরে যুদ্ধবিরতির পরও হামাস বিরোধী মিলিশিয়া নেতা আবু শাবাবের গোষ্ঠী ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলো থেকে তৎপরতা চালিয়ে আসছিল।
রাফা যুদ্ধবিরতির এই দিনগুলোতে সবচেয়ে নৃশংস সহিংসতার কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। বুধবারও সেখানে বন্দুকযুদ্ধ হয়েছে বলে জানিয়েছে অধিবাসীরা। ইসরায়েল এই বন্দুকযুদ্ধে তাদের ৪ সেনা আহত হওয়ার কথা জানায়। বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, তাদের সেনারা রাফাহের নিচের টানেলগুলোতে প্রায় ৪০ জন হামাস যোদ্ধাকে হত্যা করেছে।
আবু শাবাবের মৃত্যুর খবর এক নিরাপত্তা সূত্রকে উদ্ধৃত করে প্রচার করেছে ইসরায়েলের কান সরকারি সম্প্রচারমাধ্যমসহ অন্যান্য গণমাধ্যমগুলো। ইসরায়েলের সেনা বেতারও একটি নিরাপত্তা সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, আবু শাবাব দক্ষিণ ইসরায়েলের সোরোকা হাসপাতালে আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকার সময় মারা গেছেন। তবে হাসপাতালটি তাৎক্ষণিকভাবেই আবু শাবাবের সেখানে ভর্তি থাকার কথা অস্বীকার করেছে। শাবাবের মৃত্যু কখন ঘটেছে কিংবা তিনি কিভাবে আহত হয়েছিলেন খবরে তা বলা হয়নি।
গাজায় চলমান সংঘর্ষের পরিপ্রেক্ষিতে আবু শাবাবের মৃত্যু একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই সংঘর্ষে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে। গাজার মানুষের জন্য শান্তি ও নিরাপত্তা পুনরুদ্ধারের জন্য আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ হবে।
গাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে বিশ্লেষকরা বলছেন, আবু শাবাবের মৃত্যু এই অঞ্চলের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে। এই ঘটনার পর ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে সংঘর্ষ বাড়তে পারে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারের জন্য পদক্ষেপ নিতে হবে।
গাজার মানুষের জ



