ইউরোপের সবচেয়ে বড় সঙ্গীত প্রতিযোগিতা ইউরোভিশন সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় এক বড় সংকট দেখা দিয়েছে। ইসরায়েলের অংশগ্রহণ নিয়ে চারটি দেশ প্রতিযোগিতা থেকে নাম প্রত্যাহার করেছে। আয়ারল্যান্ড, যারা এই প্রতিযোগিতায় সাতবার জয়লাভ করেছে, এবং নেদারল্যান্ডস, যারা পাঁচবার জয়লাভ করেছে, এই প্রতিযোগিতা থেকে নাম প্রত্যাহার করেছে। স্পেন, যারা এই প্রতিযোগিতার একটি বড় অর্থায়নকারী, এবং স্লোভেনিয়াও প্রতিযোগিতা থেকে নাম প্রত্যাহার করেছে।
এই সংকট ইউরোভিশন পরিবারের মধ্যে একটি গভীর বিভাজনের কথা তুলে ধরে। ইসরায়েলের গাজা যুদ্ধের সময় আচরণ নিয়ে বছরের পর বছর ধরে উত্তেজনা বাড়ছিল। এছাড়াও ভোটিং এবং প্রচারণা প্রক্রিয়া নিয়েও উত্তেজনা ছিল। ইসরায়েল এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সিদ্ধান্তকে একটি বিজয় হিসেবে দেখছে।
ইউরোপীয় ব্রডকাস্টিং ইউনিয়ন (ইবিইউ) এর সম্মেলনে এই সংকট স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ইসরায়েলের অংশগ্রহণ নিয়ে সরাসরি কোনো ভোট করা হয়নি, তবে দেশটির ভবিষ্যত অংশগ্রহণ নতুন নিয়ম প্রণয়নের সাথে জড়িত। ইবিইউ এর সদস্যদের মধ্যে ৬৫% নতুন নিয়ম প্রণয়নের পক্ষে ভোট দিয়েছে। ১০% সদস্য ভোট দেননি।
অস্ট্রিয়ার পাবলিক ব্রডকাস্টার ওআরএফ-এর প্রধান নির্বাহী রোলান্ড ওয়াইসম্যান বলেছেন, একটি গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেছেন, সকলেই তাদের মতামত প্রকাশ করেছে এবং শেষ পর্যন্ত একটি গোপন ভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ছিল।
এই সিদ্ধান্তের ফলে ইসরায়েল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের অনুমতি পেয়েছে, তবে অন্যান্য দেশগুলো প্রতিযোগিতা থেকে নাম প্রত্যাহার করেছে। স্পেন বলেছে, এই সংকট এড়ানো সম্ভব ছিল। স্পেনের ব্রডকাস্টার আরটিভিই-এর প্রেসিডেন্ট একটি সামাজিক মিডিয়া পোস্টে বলেছেন, এই পর্যায়ে পৌঁছানো উচিত ছিল না।
এই ঘটনার পর ইউরোভিশন সঙ্গীত প্রতিযোগিতার ভবিষ্যত নিয়ে প্রশ্ন তুলে উঠেছে। প্রশ্ন তুলে উঠেছে, এই প্রতিযোগিতা কি ভালোভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এই প্রতিযোগিতা কি একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে, নাকি এটি একটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে পরিণত হচ্ছে।
এই প্রতিযোগিতার ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকে। তারা বলেছেন, এই প্রতিযোগিতা উচিত একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হওয়া। এই প্রতিযোগিতা উচিত রাজনৈতিক বিষয়গুলোকে এড়িয়ে যাওয়া। এই প্রতিযোগিতা উচিত শুধুমাত্র সঙ্গীত এবং সংস্কৃতির উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করা।
এই প্রতিযোগিতার ভবিষ্যত নিয়ে আলোচনা চলছে। অনেকে বলেছেন, এই প্রতিযোগিতা উচিত একটি নতুন পথে এগিয়ে যাওয়া। এই প্রতিযোগিতা উচিত রাজনৈতিক বিষয়গুলোকে এড়িয়ে যাওয়া এবং শুধুমাত্র সঙ্গীত এবং সংস্কৃতির উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করা।



