শেরপুর শহরের শেখহাটি মহল্লায় শত বছরের ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে এবং সামাজিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করতে গ্রাম শিন্নি অনুষ্ঠান করা হয়েছে। এই আয়োজনকে ঘিরে বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উৎসবের আমেজ বিরাজ করে শহরের শেখহাটি মহল্লার ২২০টি পরিবারের মধ্যে।
এক সময় জেলার অধিকাংশ সমাজে প্রতি বছর ফসল কাটার মাস অগ্রহায়ণে গ্রাম শিন্নি অনুষ্ঠান আয়োজিত হলেও নানা কারণে আগের মতো ব্যাপকভাবে এই আয়োজন করা হয় না। তবে পূর্বপুরুষের ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে এখনো এর আয়োজন করে চলেছেন দেশের প্রাচীনতম শেরপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের শেখহাটি মহল্লার পুরানো বাসিন্দারা।
গত আড়াই দশক ধরে এই ঐতিহ্যবাহী মুখরোচক সুস্বাদু শিন্নি রান্নায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন ওই মহল্লার বাসিন্দা নূর ইসলাম। তিনি বলেন, এই আয়োজন করা হয় সমাজের ঐক্য, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং সবাই মিলেমিশে থাকার জন্য।
আয়োজকরা জানান, দলমত নির্বিশেষে একই সমাজভুক্ত পরিবার ৩৫০ টাকা করে চাঁদা দিয়ে এই গ্রাম শিন্নির আয়োজন করে। তবে যারা ধার্যকৃত চাঁদা দিতে অক্ষম তাদেরকেও এই আনন্দ উৎসবে শরিক করা হয়।
এই গ্রাম শিন্নি উপলক্ষে এই সমাজভুক্ত মানুষের স্বজনরা দূরদূরান্ত থেকে শেখহাটি মহল্লায় বেড়াতে আসেন এবং আনন্দ উপভোগ করেন। শিশুরা এই অনুষ্ঠানে দেখতে এসে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে।
বৃহস্পতিবার ঈদগাহ মাঠের পাশে নূর ইসলামের বাড়ি বিশাল উঠান জুড়ে উৎসবের আমেজ শিন্নি আয়োজন, রান্না এবং পরবর্তীতে শিন্নি বিতরণ এসবই করেন ওই সমাজভুক্ত মানুষেরা। বিকাল ৪টায় চারটি চুলায় ১২টি হাড়িতে এই ‘গ্রাম শিন্নি’ রান্না শুরু হয়।
শিন্নি রান্নার প্রধান বাবুর্চি বিল্লাল হোসেন বলেন, শেখহাটি গ্রামের সমাজ একত্র থাকার জন্য গ্রাম শিন্নি করতাছি। আমি এই সমাজেরই লোক। ৩০/৩৫ বছরে ধরে এইডা করি। প্রতি বছরই আমার মনে ফূর্তি লাগে। ১০ জন নিয়া রান্না করি।
তিনি বলেন, প্রতি সজপেনে দুধের লগে চাইল অইল সোয়া ৬ কেজি করা। চিনি অইল ১৩ কেজি, গুড় অইল ৬টা করা। এরপর কিচমিচ অইল আপনার ৩০ গ্রাম।
এই গ্রাম শিন্নি উৎসব শেরপুরের সামাজিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করেছে। এটি সমাজের ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এই ধরনের আয়োজন সমাজের সংহতি ও সম্প্রীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শেখহাটি মহল্লার এই গ্রাম শিন্নি উৎসব শেরপুরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি অংশ। এটি সমাজের মানুষের মধ্যে ভালোবাসা, সম্প্রীতি ও সংহতির বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করেছে। এই ধরনের আয়োজন সমাজের সকল মানুষের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক এবং সমাজের সামগ্রিক উন্নয়নে অবদান রাখে।



