20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিমুক্তিযুদ্ধের সময় সেক্টর গঠন

মুক্তিযুদ্ধের সময় সেক্টর গঠন

মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সেক্টর গঠন করা হয়েছিল। ১৯৭১ সালের মার্চের পরে দেশজুড়ে বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্ন প্রতিরোধযুদ্ধ চলছিল। এর সূচনা করেছিলেন সামরিক বাহিনী, আধা সামরিক বাহিনী—ইপিআর এবং পুলিশের বাঙালি সদস্যরা।

তাঁরা প্রাথমিক প্রতিরোধটা গড়ে তোলেন। সেই প্রতিরোধ গড়াল সশস্ত্র যুদ্ধে। পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ছিল বাঙালি সৈনিকদের একমাত্র পদাতিক রেজিমেন্ট। এর ছিল মাত্র ৮ ব্যাটালিয়ন সৈনিক।

এসব ব্যাটালিয়নের তিনটি ছিল আবার পশ্চিম পাকিস্তানে। ব্যাটালিয়নের অধিনায়কদের মধ্যে কয়েকজন ছিলেন পশ্চিম পাকিস্তানি। তাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের মধ্য দিয়ে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট প্রথম প্রতিরোধ শুরু করে।

একই সঙ্গে যুক্ত হয় সীমান্ত রক্ষায় নিয়োজিত আধা সামরিক বাহিনী ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলসও। আর পুলিশ লাইনে পাকিস্তানি সেনাদের হামলার পর পুলিশও সেই প্রতিরোধযুদ্ধে অবধারিতভাবে যুক্ত হয়ে যায়।

যথাযথ নেতৃত্ব ও কৌশলগত পরিকল্পনার অভাবে শুরুতে এ প্রতিরোধযুদ্ধ চলছিল বিচ্ছিন্নভাবে। ফলে রণাঙ্গন থেকে একের পর এক বিপর্যয়ের সংবাদ আসতে শুরু করল।

একের পর এক এলাকা পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর হাতে পতন হতে থাকল। কোথাও প্রতিরোধযুদ্ধ থেকে পিছিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছিলেন মুক্তিযোদ্ধারা।

তখন পর্যন্ত মুজিবনগর সরকার গঠন হয়নি। এ পরিস্থিতিতে প্রতিরোধযুদ্ধকে কীভাবে সামগ্রিক যুদ্ধের দিকে এগিয়ে নেওয়া যায়, তার করণীয় নির্ধারণ ও সমন্বয় সাধনের জন্য বাঙালি সেনা কর্মকর্তারা তেলিয়াপাড়া (হবিগঞ্জ) চা-বাগানে একটি সভার আয়োজন করেন।

৪ এপ্রিল তেলিয়াপাড়া চা-বাগানের ব্যবস্থাপকের বাংলোয় সভা হয়। সেই সভায় বাংলাদেশকে মোট চারটি অঞ্চলে ভাগ করা হয়।

এগুলোর নেতৃত্বও ঠিক হয়। মেজর জিয়াউর রহমান (চট্টগ্রাম অঞ্চল), মেজর কে এম সফিউল্লাহ (সিলেট অঞ্চল), মেজর খালেদ মোশাররফ (কুমিল্লা অঞ্চল) এবং মেজর আবু ওসমান চৌধুরী (কুষ্টিয়া অঞ্চল)।

এটিই ছিল মুক্তিযুদ্ধকালে সামরিক বিষয়গুলোর সমন্বয় সাধনের জন্য প্রথম সভা। ১৭ এপ্রিল বৈদ্যনাথতলায় মুজিবনগর সরকার শপথ নেয়।

মুক্তিযুদ্ধ: সূচনা থেকে সমাপ্তি বইয়ে প্রকাশিত প্রয়াত সাবেক আমলা ও অর্থনীতিবিদ আকবর আলি খানের ‘প্রবাসী মুজিবনগর সরকার’ শীর্ষক নিবন্ধ থেকে জানা যাচ্ছে, শুরুর দিকে বেছে বেছে কয়েকটি মন্ত্রণালয় দিয়ে যাত্রা শুরু করে মুজিবনগর সরকার।

এরপর কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি পায়।

মুজিবনগর সরকার গঠনের পর মুক্তিযুদ্ধে এক নতুন মাত্রা যোগ হয়।

সেক্টর গঠনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে সামরিক বিষয়গুলোর সমন্বয় সাধন করা হয়।

এই সমন্বয় সাধনের ফলে মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি জাতি এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments