ভারতের বৃহত্তম বিমান সংস্থা ইন্ডিগো শুক্রবার শত শত ফ্লাইট বাতিল করার পর দেশটির ভ্রমণ অস্থিরতা আরও বাড়বে।
ইন্ডিগো ভারতে ৬০% বাজার শেয়ার নিয়ে প্রতিদিন ২০০০টিরও বেশি ফ্লাইট পরিচালনা করে।
কিন্তু নতুন ক্রু রোস্টারিং নিয়মগুলির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে পাইলটের ঘাটতির সম্মুখীন হয়েছে।
ভারত জুড়ে হাজার হাজার যাত্রী আটকা পড়েছে, যা একটি ব্যস্ত ভ্রমণের সময়।
ইন্ডিগোর সমস্ত ফ্লাইট রাজধানী দিল্লি থেকে বাতিল করা হয়েছে।
ইন্ডিগো জানিয়েছে যে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাদের কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে স্বাভাবিক হবে না এবং তারা নতুন নিয়মগুলির উপর অস্থায়ী ত্রাণ চেয়েছে।
নতুন নিয়মগুলি আরও বেশি বিশ্রামের ঘন্টা এবং সীমিত রাত্রিকালীন ডিউটির দাবি করে।
ইন্ডিগো আরও জানিয়েছে যে বিঘ্ন কমানোর জন্য তারা ৮ ডিসেম্বর থেকে তাদের ফ্লাইট অপারেশন কমিয়ে দেবে।
সরকার জানিয়েছে যে তারা পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং ফেডারেল অ্যাভিয়েশন মন্ত্রী এই পরিস্থিতি নিয়ে স্পষ্ট অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
ভারতের অ্যাভিয়েশন নিয়ন্ত্রক সংস্থা আলাদা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে বিঘ্নগুলি প্রাথমিকভাবে নতুন ফ্লাইট ডিউটি টাইম লিমিটেশন নিয়মগুলি বাস্তবায়নে ‘ভুল বিচার’ এবং ‘পরিকল্পনাগত ব্যবধান’ এর কারণে হয়েছে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইন্ডিগোকে ক্রু নিয়োগ, প্রশিক্ষণ, রোস্টার পুনর্গঠন, নিরাপত্তা-ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং অন্যান্য প্রতিকার ব্যবস্থার বিস্তারিত পরিকল্পনা তাত্ক্ষণিক প্রভাবে জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে।
এদিকে, ইন্ডিগো ভারতের এয়ারলাইন পাইলটস অ্যাসোসিয়েশনের তীব্র সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছে, যারা বলেছে যে ডিউটি সময়ের উপর বিমান সংস্থাকে অস্থায়ী ত্রাণ দেওয়া নতুন নিয়মগুলির চেতনাকে দুর্বল করে দেবে এবং ‘গুরুতরভাবে’ উড়ন্ত জনগণের নিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে ফেলবে।
নতুন নিয়ম অনুসারে, পাইলটদের আরও বেশি বিশ্রামের সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে একটি প্রধান পরিবর্তন হল পাইলটদের সপ্তাহে দুটি রাত্রিকালীন অবতরণ করতে হবে, যা পুরানো নিয়মে ছিল ছয়টি।
অনেক যাত্রী সামাজিক মিডিয়ায় তাদের অভিযোগ প্রকাশ করেছে, যে তাদের সময়মতো তথ্য দেওয়া হচ্ছে না এবং তারা বিমানবন্দরে খাবার ছাড়াই আটকা পড়েছে।
এই পরিস্থিতি ভারতের বিমান শিল্পের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে, কারণ এটি যাত্রীদের আস্থা এবং আকর্ষণকে প্রভাবিত করতে পারে।
ইন্ডিগোকে তাদের কার্যক্রম স্বাভাবিক করার জন্য দ্রুত সমাধান খুঁজে বের করতে হবে, অন্যথায় এটি তাদের খ্যাতি এবং বাজার শেয়ারকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।



