ইউরোপের একটি জনপ্রিয় গানের প্রতিযোগিতা ইউরোভিশনে এবার একটি নতুন ঘটনা ঘটেছে। আগামী বছরের প্রতিযোগিতায় ইসরায়েলকে অংশগ্রহণ করতে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে চারটি দেশ প্রতিযোগিতা বয়কট করেছে। এই চারটি দেশ হলো আয়ারল্যান্ড, স্পেন, নেদারল্যান্ডস এবং স্লোভেনিয়া।
এই দেশগুলোর সম্প্রচার সংস্থাগুলো জানিয়েছে যে, গাজায় গণহত্যার অভিযোগ থাকার পরও ইসরায়েলকে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। তারা আগে থেকেই ইসরায়েলকে বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিল।
ইউরোপীয় সম্প্রচার সংস্থা ইউরোপিয়ান ব্রডকাস্টিং ইউনিয়ন (ইবিইউ) একটি বৈঠকে ইসরায়েলের অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা করেছে। এই বৈঠকে প্রায় ৫০টি সম্প্রচার সংস্থা অংশগ্রহণ করেছে। ইবিইউ জানিয়েছে যে, ইসরায়েলের অংশগ্রহণ নিয়ে সদস্যদের মধ্যে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে এবং ভোটে দেখা গেছে যে, অধিকাংশ দেশ চায় প্রতিযোগিতাটি রাজনৈতিক মঞ্চে পরিণত না হোক।
ইউরোভিশন পরিচালক মার্টিন গ্রিন বলেছেন, সদস্যদের প্রধান অবস্থান হলো প্রতিযোগিতার নিরপেক্ষতা বজায় রাখা। ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হেরজগ এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এটি সংহতি, বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার প্রতীক এবং ইসরায়েল বিশ্বমঞ্চে প্রতিনিধিত্ব পাওয়ার যোগ্য।
এই ঘটনাটি ইউরোভিশন প্রতিযোগিতার ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এটি দেখায় যে, রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বিতর্ক কীভাবে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে প্রভাবিত করতে পারে। এই ঘটনাটি আমাদেরকে চিন্তা করতে বাধ্য করে যে, সংস্কৃতি এবং রাজনীতির মধ্যে সম্পর্ক কীভাবে জটিল এবং সংবেদনশীল হতে পারে।
এই ঘটনার পরে, ইউরোভিশন প্রতিযোগিতার ভবিষ্যত কী হবে তা নিয়ে অনেক প্রশ্ন তুলেছে। কীভাবে এই প্রতিযোগিতা এই রাজনৈতিক উত্তেজনাকে মোকাবেলা করবে? কীভাবে এটি তার নিরপেক্ষতা বজায় রাখবে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে বের করতে আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।
এই ঘটনাটি আমাদেরকে সচেতন করে যে, সংস্কৃতি এবং রাজনীতির মধ্যে সম্পর্ক কীভাবে জটিল এবং সংবেদনশীল হতে পারে। এটি আমাদেরকে চিন্তা করতে বাধ্য করে যে, কীভাবে আমরা এই সম্পর্ককে ভালোভাবে বুঝতে পারি এবং কীভাবে আমরা এই সম্পর্ককে আরও ভালো করতে পারি।



