কুমিল্লা জেলা দেশের মাছ উৎপাদনে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। মৎস্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, কুমিল্লা জেলায় ৩ লাখ ১৫ হাজার টন মাছ উৎপাদন হয়। এই জেলার মাটি ও পানি মাছ চাষের জন্য উপযোগী।
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার রায়পুর গ্রামে মাছ চাষের দৃশ্য দেখা যায়। এই গ্রামে প্রায় সব জায়গাতেই মাছ চাষ হয়। এছাড়াও চান্দিনা উপজেলার পিহর গ্রামেও মাছ চাষ হয়। জেলার বিভিন্ন গ্রামে গেলে দেখা যায়, মাছ উৎপাদনে কুমিল্লার মানুষ কতটা এগিয়ে গেছে।
মাছ উৎপাদনে প্রথম অবস্থানে রয়েছে ময়মনসিংহ জেলা। সেখানে মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আছে। মাছ উৎপাদনে যেকোনো গবেষণা সেখানে আগে প্রয়োগ হয়, এ জন্য ময়মনসিংহ জেলার উৎপাদন কুমিল্লার চেয়ে কিছুটা বেশি। বর্তমানে সেখানে ৩ লাখ ৪৫ হাজার টন মাছ উৎপাদন হয়ে থাকে বছরে।
কুমিল্লা জেলায় মাছ উৎপাদনের সাথে সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, প্রাকৃতিকভাবেই কুমিল্লার মাটি ও পানি মাছ চাষের জন্য উপযোগী। জেলা মৎস্য কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক অশোক কুমার দাস বলেন, মাছ উৎপাদনে প্রথম অবস্থানে আছে ময়মনসিংহ জেলা।
কুমিল্লা জেলায় মাছ চাষের ইতিহাস পুরনো। ১৯৮৬ সালের দিকে উপজেলার ধানুয়াখলা গ্রামের আদর্শ মৎস্য প্রকল্প নাম দিয়ে কয়েকজন অলস জমিগুলোতে মাছ চাষের উদ্যোগ নেন। দেশে মাছ চাষে একটি পদ্ধতি হচ্ছে প্লাবনভূমিতে মাছ চাষ। আশির দশকে কুমিল্লা থেকে শুরু হওয়া এই পদ্ধতি এখন ছড়িয়েছে দেশজুড়ে।
কুমিল্লা জেলায় মাছ উৎপাদন বাড়ানোর জন্য সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। মাছ চাষের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্থান সরবরাহ করা হচ্ছে। মাছ চাষের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও মাছ চাষের জন্য ঋণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
কুমিল্লা জেলায় মাছ উৎপাদন বৃদ্ধির সাথে সাথে জেলার অর্থনীতিও সমৃদ্ধ হচ্ছে। মাছ চাষের কারণে জেলার কৃষকরা আর্থিকভাবে সচ্ছল হচ্ছে। এছাড়াও মাছ চাষের কারণে জেলার খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হচ্ছে।
কুমিল্লা জেলায় মাছ উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সরকারকে আরও উদ্যোগ নিতে হবে। মাছ চাষের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্থান সরবরাহ করতে হবে। মাছ চাষের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। এছাড়াও মাছ চাষের জন্য ঋণ সহায়তা দিতে হবে। এতে করে কুমিল্লা জেলায় মাছ উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে এবং জেলার অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে।



