রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনের ডনবাস অঞ্চলকে মুক্ত করার জন্য অস্ত্রের শক্তি ব্যবহার করার হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইউক্রেনীয় বাহিনী যদি ডনবাস এলাকা থেকে সরে না যায়, তাহলে রাশিয়া সেই অঞ্চলটি পুরোপুরি দখল করবে।
পুতিন ভারত সফরের আগে একটি সাক্ষাৎকারে এই হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, হয় রাশিয়া অস্ত্রের শক্তিতে ডনবাস মুক্ত করবে, অথবা ইউক্রেনের সেনারা সরে যাবে। ডনবাসে রাশিয়া-সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদী ও ইউক্রেনীয় সেনাদের মধ্যে দীর্ঘ আট বছর ধরে সংঘর্ষ চলছে।
ইউক্রেন ইতিমধ্যেই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে তারা রাশিয়ার দাবির মুখে নিজস্ব ভূখণ্ড ছেড়ে দেবে না। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়া যুদ্ধ শুরু করেছে, তাই তাদের প্রতি সহানুভূতি দেখানো যায় না।
বর্তমানে, রাশিয়া ইউক্রেনের ১৯.২ শতাংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০১৪ সালে সংযুক্ত করা ক্রিমিয়া, পুরো লুহানস্ক, ডোনেৎস্কের ৮০ শতাংশের বেশি, খেরসন ও জাপোরিঝিয়ার প্রায় ৭৫ শতাংশ এবং খারকিভ, সুমি, মাইকোলাইভ ও ডিনিপ্রোপেট্রোভস্কের কিছু অংশ।
রাশিয়া যুদ্ধ থামাতে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির আলোচনায় অবস্থান একই – পুরো ডনবাসের নিয়ন্ত্রণ চাই মস্কো এবং যুক্তরাষ্ট্রের উচিত অনানুষ্ঠানিকভাবে তা স্বীকার করা। তবে পশ্চিমা দেশগুলো ২০২২ সালের রুশ গণভোটকে ‘প্রতারণা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং অধিকাংশ দেশ এখনো এসব অঞ্চলকে ইউক্রেনের অংশ হিসেবেই স্বীকৃতি দেয়।
সম্প্রতি ক্রেমলিনে মার্কিন রাষ্ট্রদূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে বৈঠকে পুতিন জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু প্রস্তাব রাশিয়া বিবেচনা করছে এবং আলোচনা চলছে। রুশ সংবাদ সংস্থা আরআইএ জানিয়েছে, বৈঠকটি ছিল ‘খুব ফলপ্রসূ’ এবং এটি আলাস্কায় পুতিন-ট্রাম্প আলোচনার ধারাবাহিকতা।
এই পরিস্থিতির মধ্যে, ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। রাশিয়ার হুমকি ইউক্রেনকে আরও সতর্ক করে তুলেছে। এই পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রভাব সম্পর্কে জানতে আমরা অপেক্ষা করছি।
ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতের শুরু থেকেই আমরা এই বিষয়ে রিপোর্ট করে যাচ্ছি। আমরা এই পরিস্থিতির উন্নয়ন নিয়ে আপনাকে আপডেট রাখব।



