বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় স্বাস্থ্য সংকট দিন দিন বাড়ছে। লবণাক্ততা ও তাপপ্রবাহের কারণে মাতৃ, নবজাতক, কিশোর ও শিশুদের স্বাস্থ্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। এই গবেষণা সাতক্ষীরার আশাশুনি সদর, প্রতাপনগর ও অনুলিয়া উপজেলায় করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে যে নারী ও কিশোরীদের মধ্যে পানিশূন্যতা, রক্তশূন্যতা, চর্মরোগ, প্রজনন স্বাস্থ্য সমস্যা, গর্ভাবস্থায় সমস্যা ও মানসিক চাপ বাড়ছে।
এই গবেষণায় ১৩০ জন স্থানীয় অংশগ্রহণকারীর সাথে কথা বলা হয়েছে। এদের মধ্যে ৬০ জন প্রজননক্ষম নারী, ৩০ জন তাদের পুরুষ অংশীদার, ১৫ জন কিশোরী ও ২৫ জন স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছে। এই গবেষণা থেকে বোঝা যায় যে জলবায়ু সমস্যা মোকাবেলায় স্বাস্থ্য খাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।
স্বাস্থ্য সচিব সাইদুর রহমান জানিয়েছেন যে স্বাস্থ্য খাতে গবেষণা দীর্ঘদিন ধরেই দুর্বল। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে সরকার এই বিষয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং শীঘ্রই ফলাফল পাওয়া যাবে।
পরিবার পরিকল্পনা মহাপরিচালক ড. আশরাফি আহমেদ বলেছেন যে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে স্বাস্থ্য খাতে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। তিনি বলেছেন যে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।
এই গবেষণার ফলাফল থেকে বোঝা যায় যে জলবায়ু পরিবর্তন মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় হুমকি। এই হুমকি মোকাবেলায় সরকার, বেসরকারি সংস্থা ও স্থানীয় সম্প্রদায়কে একসাথে কাজ করতে হবে।
আমরা কি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট স্বাস্থ্য সংকট মোকাবেলায় প্রস্তুত আছি? আমরা কি এই সংকটের জন্য যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছি? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে বের করার জন্য আমাদের সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে।
আমরা আশা করি যে সরকার ও বেসরকারি সংস্থাগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট স্বাস্থ্য সংকট মোকাবেলায় দ্রুত পদক্ষেপ নেবে। আমরা আশা করি যে আমরা সবাই একসাথে কাজ করে এই সংকট মোকাবেলা করতে পারব।



