গাজায় যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ শুরু হবে শিগগিরই বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বুধবার হোয়াইট হাউজে এক সাংবাদিক সম্মেলনে একথা বলেন।
গাজায় যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার দ্বিতীয় পর্যায় কখন শুরু হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি এই কথা বলেন। ট্রাম্প সাংবাদিকদের আরও বলেন, “আমরা এখন মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি পেয়েছি। ৫৯ টি দেশ এ প্রক্রিয়ায় অসাধারণ সমর্থন দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সমর্থন পাওয়াটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।”
ইসরায়েলের প্রায় দুই বছরের সামরিক অভিযানের পর ট্রাম্প প্রস্তাবিত ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ১০ অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। তবে এই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ইসরায়েলের চালানো একাধিক হামলায় গাজায় এ পর্যন্ত নিহত হয়েছে ৩৬০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি।
গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি করার ক্ষেত্রে মধ্যস্থতা করা দেশগুলোর মধ্যে ছিল কাতার। ট্রাম্পের মতো কাতারও এ সপ্তাহের শুরুর দিকে আশার বাণী শুনিয়েছিল। দেশটি বলেছিল, তারা আশা করছে “ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী গোষ্ঠী হামাস এবং ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় পর্যায় নিয়ে খুব শিগগিরই আলোচনা শুরু করবে।”
ট্রাম্পর ২০ দফা গাজা শান্তি পরিকল্পনার প্রথম দফায় শর্ত মেনে ইসরায়েল হাজার হাজার ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে হামাসের কাছ থেকে ইসরায়েলি জিম্মিদেরকে ফিরে পাওয়ার বিনিময়ে। হামাস এবং ইসলামিক জিহাদ আন্দোলন জীবিত ২০ জিম্মি এবং ৪৭ জিম্মির মরদেহ ইসরায়েলকে ফেরত দিয়েছে। এখন কেবল এক জিম্মির দেহই গাজায় আছে।
বৃহস্পতিবার ইসরায়েলের সেনাবাহিনী নিশ্চিত করেছে জানিয়েছে যে, হামাসের ফেরত দেওয়া ইসরায়েলের এক থাই জিম্মির দেহ তারা শনাক্ত করেছে। ইসরায়েল এও জানিয়েছে যে, তারা একবার সব জিম্মির দেহ পেয়ে গেলেই মিশরের সঙ্গে গাজার রাফা সীমান্ত ক্রসিং খুলে দেবে।
যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার এই প্রথম ধাপের পর দ্বিতীয় ধাপে গাজায় একটি অন্তবর্তীকালীন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব আছে। যেখানে হামাস থাকবে না। যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপে আরও প্রস্তাব করা হয়েছে, গাজায় একটি স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনী প্রতিষ্ঠার, যাদেরকে প্রশিক্ষণ দেবে আরব ও মুসলিম দেশগুলো।
এছাড়া, হামাসের নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টিও উল্লেখ আছে দ্বিতীয় ধাপে। হামাস এই শর্ত বরাবরই মানতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে। বিশেষ করে ইসরায়েলি সেনারা গাজা থেকে সরে না গেলে হামাস নিরস্ত্র হতে রাজি নয়।



