বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ব্যক্তির জন্য প্রতিষ্ঠান বন্ধ করবে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেছেন, এলসি খুলতে দিয়ে এস আলম ও সামিটের কারখানাগুলোকে সচল রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আয়োজিত বিনিয়োগ সংলাপে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ তোলেন, যারা অর্থপাচার করেছে তারা বহাল তবিয়তে আছেন। এর জবাবে গভর্নর এ বিষয়ে তার ব্যাখ্যা তুলে ধরেন।
গভর্নর বলেন, এস আলম দেশে না থাকতে পারে, তাকে থাকতে দেওয়া হোক না হোক—সেটা পরবর্তী সরকার সিদ্ধান্ত নিবে। তিনি বলেন, আমাদের সামিট, তারা দেশে নাই, কিন্তু তাদের প্রতিষ্ঠান প্রত্যেকটাই চলছে। বেক্সিমকো, শুধু বেক্সিমকো টেক্সটাইল ছাড়া প্রতিটা প্রতিষ্ঠান চলছে।
গত বছরের ৫ অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বেক্সিমকো, সামিট, এস আলমসহ দেশের কয়েকটি শিল্পগ্রুপের বিরুদ্ধে আর্থিক খাতে ঋণ জালিয়াতি, দুর্নীতি, অনিয়ম ও অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন।
গভর্নর বলেন, প্রতিষ্ঠান তো জাতীয় সম্পদ। জাতীয় সম্পদ। কর্মসংস্থান হচ্ছে, আমাদের সাধারণ মানুষের জীবিকার অর্জনের জায়গা। এখানে আমাদেরকে আইনগতভাবে… একই সময় কারখানাগুলোকে চালু রেখে, তাদেরকে এলসি খুলতে দিয়ে আমরা তাদেরকে চালু রেখেছি। কোনো প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয় নাই।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এসব প্রতিষ্ঠানের মালিক ও তাদের পরিবারের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি জব্দ, মালিকানা হস্তান্তর বন্ধ রাখার মতো পদক্ষেপ নেয়।
গভর্নর বলেন, এখানে ওই ‘ডান্ডা’ দিয়ে করার কিছু নাই, আমাকে আইনগতভাবেই এগোতে হবে। আমরা যারা অর্থপাচার করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে অনেকগুলো মামলা করেছি। এখন কোর্টকে তো আর আমি এগিয়ে নিতে পারব না আমার সময়ে, তাদের সময়েই তারা যাচ্ছে। সেটাকেও আমরা বিবেচনায় নিয়েছি।
ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ রোধে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছেন গভর্নর। তিনি বলেন, আমরা চাই না যে কোথাও উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাক। ব্যক্তির জন্য আমরা প্রতিষ্ঠানকে বন্ধ করে দেব না।



