বাম গণতান্ত্রিক জোটসহ কয়েকটি সংগঠনের বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশের লাঠিপেটা হয়েছে। বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে সম্পাদিত জাতীয় স্বার্থবিরোধী লালদিয়া-পানগাঁও টার্মিনাল ইজারা চুক্তি বাতিল এবং নিউমুরিং ও পতেঙ্গা টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানিকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে এই বিক্ষোভ মিছিল বের হয়েছিল।
বিক্ষোভকারীরা রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে একটি সমাবেশ করে। সমাবেশ শেষে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। কাকরাইল মোড়ে পুলিশি বাধার মুখে পড়ে মিছিলটি। পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধাক্কাধাক্কি হয়। একপর্যায়ে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের লাঠিপেটা করে। এতে কয়েকজন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন।
পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম জানান, প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন এলাকায় মিছিল, মিটিং ও সমাবেশ নিষিদ্ধ। যাঁরা কর্মসূচি দিয়েছেন, তাঁদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে দফায় দফায় কথা হয়েছে। তারপরও তাঁরা যমুনার দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে থামানোর চেষ্টা করে। এ সময় তাঁদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি হয়।
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ জানান, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশ লাঠিপেটা করেছে। এতে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ কাফি, কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রুহুল আমিনসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
পরে বিক্ষোভকারীরা কাকরাইল মোড়ে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ দেখান। পুলিশি হামলার প্রতিবাদে আগামীকাল শুক্রবার বিকেল ৪টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ। আজ বেলা ১টা ১০ মিনিটে এ ঘোষণা দিয়ে বিক্ষোভকারীরা কাকরাইল মোড় ছেড়ে দেন। পরে তাঁরা মিছিল নিয়ে প্রেসক্লাবে গিয়ে কর্মসূচি শেষ করেন।
এই ঘটনায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিক্ষোভকারীরা তাদের দাবি আদায়ের জন্য আরও কর্মসূচি পালন করবে বলে জানা গেছে। এই ঘটনার পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কেমন হবে তা নিয়ে সবার চোখ রয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা তাদের দাবি আদায়ের জন্য সরকারের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করছে। তারা বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি বাতিল এবং নিউমুরিং ও পতেঙ্গা টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানিকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধের দাবি জানাচ্ছে। এই দাবি আদায়ের জন্য তারা আরও কর্মসূচি পালন করবে বলে জানা গেছে।
এই ঘটনায় সরকার ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। সরকার বিক্ষোভকারীদের দাবি মানতে পারে বা তাদের বিরুদ্ধে কড়াকড়ি নিতে পারে। এই ঘটনার পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কেমন হবে তা নিয়ে সবার চোখ রয়েছে।



