বাংলাদেশের টেলিকম খাত দুর্নীতি, সিস্টেমিক অনিয়মিততা এবং শাসন ব্যবস্থার ভাঙ্গনের শিকার হয়েছে, যা নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলির বিশ্বাসযোগ্যতা কমিয়ে দিয়েছে, বাজারকে বিকৃত করেছে এবং জনসাধারণের সম্পদ নষ্ট করেছে। একটি সরকারি কমিশনকৃত হোয়াইট পেপারে এই তথ্য উঠে এসেছে।
বুয়েটের অধ্যাপক কামরুল হাসানের নেতৃত্বে গঠিত একটি সাত সদস্যের কমিটি এই হোয়াইট পেপার তৈরি করেছে। এই কমিটি ১০টি সংস্থার শাসন অনুশীলন পর্যালোচনা করেছে। এই পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে নীতি উপেক্ষা, অবাধ পক্ষপাত, রাজনৈতিক নিয়োগ এবং ক্রয় প্রক্রিয়ার হেরফের বহু বছর ধরে চলছে।
এই হোয়াইট পেপারে বলা হয়েছে যে টেলিকম খাতে একটি সিস্টেমিক শাসন ব্যবস্থা রয়েছে যা নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষকে দুর্বল করে দিয়েছে, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলিকে ক্ষতি করেছে এবং জনসাধারণকে প্রতারণা করেছে। সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা থেকে শুরু করে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মশালা পর্যন্ত, এই খাতটি পক্ষপাত এবং অবৈধ উপায়ে কাজ করছে।
এই সমস্যার মূলে রয়েছে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি), যা এই খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এই হোয়াইট পেপারে বলা হয়েছে যে বিটিআরসি নিজেই একটি প্রাথমিক অনিয়মিততার উৎস, যার বিশ্বাসযোগ্যতা তার নিজস্ব কর্মকাণ্ডের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এই পরিস্থিতি থেকে বের হওয়ার জন্য, টেলিকম খাতে একটি সংস্কার প্রয়োজন। এই সংস্কারের মধ্যে রয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলির কার্যকারিতা বাড়ানো, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ করা। এই সংস্কার বাস্তবায়নের মাধ্যমে, বাংলাদেশের টেলিকম খাত আরও দক্ষ, স্বচ্ছ এবং জনগণের চাহিদা পূরণকারী হতে পারে।
টেলিকম খাতের সংস্কারের জন্য সরকার, বেসরকারি খাত এবং সিভিল সোসাইটির সকল স্টেকহোল্ডারদের সমন্বয়ে কাজ করা প্রয়োজন। এই সংস্কারের মাধ্যমে, বাংলাদেশের টেলিকম খাত আরও উন্নত, দক্ষ এবং জনগণের চাহিদা পূরণকারী হতে পারে।
বাংলাদেশের টেলিকম খাতের ভবিষ্যত উজ্জ্বল হতে পারে যদি সংস্কার বাস্তবায়ন করা হয়। এই সংস্কারের মাধ্যমে, টেলিকম খাত আরও দক্ষ, স্বচ্ছ এবং জনগণের চাহিদা পূরণকারী হতে পারে। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য, সকল স্টেকহোল্ডারদের একসাথে কাজ করা প্রয়োজন।



