মেক্সিকোর সংসদে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মেক্সিকো-বাংলাদেশ সংসদীয় বন্ধুত্ব গোষ্ঠী গঠন করা হয়েছে। এই গোষ্ঠী গঠনের মাধ্যমে উভয় দেশের মধ্যে সংসদীয় কূটনীতি জোরদার করা হবে, যা সংলাপ, সহযোগিতা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার একটি সেতু হিসেবে কাজ করবে।
মেক্সিকোর সংসদের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি কেনিয়া লোপেজ রাবাদান সংসদের একটি পূর্ণ অধিবেশনে এই গোষ্ঠী গঠনের ঘোষণা দেন। নতুন গঠিত গোষ্ঠীর সভাপতি ফ্রান্সিসকো জাভিয়ের এস্ট্রাডা ডোমিংগুয়েজ বাংলাদেশের সাথে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও বিনিয়োগ সহযোগিতা প্রসারিত করার প্রতিশ্রুতি প্রকাশ করেন।
ভাইস প্রেসিডেন্ট ইরমা ইয়োর্দানা গারে লোরেডো, ডেপুটি পেড্রো ভাসকেজ গঞ্জালেজ ও ডেপুটি জেসাস ভালদেস পেনা এই অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। একটি ভিডিও বার্তায় সেনেটর এমানুয়েল রেয়েস কারমোনা উভয় পক্ষকে অভিনন্দন জানান, এই বলে যে বন্ধুত্ব গোষ্ঠী গঠনের আকারে উভয় দেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০তম বার্ষিকী পালন করছে।
জর্ডান ও কোত দিভোয়ারের রাষ্ট্রদূতরা সমর্থনের বার্তা প্রেরণ করেন। বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবর্তন ও গণতান্ত্রিক শাসন পুনরুদ্ধারের পথে দেশটির অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন।
বাংলাদেশ আগামী বছরের শুরুতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে অন্তবর্তীকালীন সরকার পরিচালনা করবে। রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল বলেন, মেক্সিকোর শক্তিশালী সংসদীয় ঐতিহ্য বাংলাদেশের জন্য মূল্যবান শিক্ষা দিতে পারে, যেখানে দেশটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন করছে।
অনুষ্ঠানটি গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা দলিল স্বাক্ষরিত হওয়ার মাধ্যমে শেষ হয়। রাষ্ট্রদূত ফজল সংসদের দর্শকদের বইতে স্বাক্ষর করেন, এরপর স্মারক উপহার বিনিময় ও একটি আনুষ্ঠানিক ছবি তোলা হয়।
এই বন্ধুত্ব গোষ্ঠী গঠনের মাধ্যমে মেক্সিকো ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই সম্পর্ক উভয় দেশের জন্য উপকারী হবে এবং দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।
এই গোষ্ঠীর কার্যক্রম শুরু হলে বাংলাদেশ ও মেক্সিকোর মধ্যে বাণিজ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে। এছাড়াও, দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সুসংহত হবে।
বাংলাদেশ ও মেক্সিকোর মধ্যে এই বন্ধুত্ব গোষ্ঠী গঠন দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। এই সম্পর্ক দুই দেশের জনগণের জন্য উপকারী হবে এবং দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা ও বন্ধুত্ব আরও গভীর হবে।



