গাইবান্ধা জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে চলমান সহকারী শিক্ষকদের কর্মবিরতির কারণে তৃতীয় পর্যায়ের প্রান্তিক মূল্যায়ন পরিচালনা করতে সমস্যা হচ্ছে। এই কর্মবিরতির কারণে পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে শিক্ষকের অভাব দেখা দিয়েছে, যার ফলে পরীক্ষা পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।
গাইবান্ধা সদর উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয় পরিদর্শন করে দেখা গেছে যে, প্রধান শিক্ষক এবং দপ্তরি শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা পরিচালনায় নিয়োজিত। তবে, একাধিক কক্ষের তদারকি করা সম্ভব হচ্ছে না, যার ফলে পরীক্ষা কক্ষে নিয়ন্ত্রণহীন পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীরা চেঁচামেচি করছে, ইচ্ছেমতো শ্রেণিকক্ষ ত্যাগ করছে, খাতা ও প্রশ্নপত্র বিতরণ বিলম্ব হচ্ছে।
রায়দাশবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনা করে পরীক্ষা নিতে বাধ্য হয়েছেন। তবে, সহকারী শিক্ষকরা কর্মবিরতিতে থাকায় এককভাবে শতাধিক শিক্ষার্থীকে সামলানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমিতির জেলা পর্যায়ের এক নেতা জানিয়েছেন, জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে পূর্বঘোষিত কর্মবিরতি চলছে। দাবি পূরণ না হলে কর্মসূচি চালু থাকবে। পূরণ হলে পরীক্ষা ও অন্যান্য দায়িত্বে ফিরে যাবেন।
গাইবান্ধা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানিয়েছে, পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত হয়ে জেলা ও উপজেলা কর্মকর্তারা বিদ্যালয় পরিদর্শন করছেন। তবে, সহকারী শিক্ষকদের কর্মবিরতি ও পরীক্ষার পরিস্থিতি নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, কিন্তু পরীক্ষা পরিচালনায় সমস্যা হচ্ছে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
পাঠকদের জন্য প্রশ্ন হলো, এই পরিস্থিতি সমাধানের জন্য কী করা যায়? সহকারী শিক্ষকদের কর্মবিরতি কীভাবে শেষ করা যায়? শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত নিশ্চিত করার জন্য কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত?



