দুর্নীতি দমন কমিশন একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের সাবেক পরিচালক ও সাবেক সচিব প্রশান্ত কুমার রায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিলের অনুমোদন দিয়েছে। এই অভিযোগপত্রে প্রশান্ত কুমারের বিরুদ্ধে সম্পদ বিবরণীতে এক কোটি ২০ লাখ টাকার তথ্য গোপন, ৭৭ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং ব্যাংক হিসাবে ১৮ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধান প্রতিবেদন বলছে, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সাবেক এই সচিব দুর্নীতি দমন কমিশনে যে সম্পদ বিবরণী দাখিল করেছিলেন, তাতে এক কোটি ২০ লাখ ৯৩ হাজার ৩৫১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। এই মিথ্যা ও ভিত্তিহীন ঘোষণা দেওয়ার দায়ে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
অনুসন্ধানে প্রশান্ত কুমারের জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ৭৭ লাখ ৫৩ হাজার ৭৬৭ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের খোঁজ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন। অসাধু উপায়ে অর্জিত এই সম্পদ ভোগদখলে রাখার অপরাধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে সবচেয়ে বড় আর্থিক অনিয়মের চিত্র এসেছে ব্যাংক লেনদেনে। দুর্নীতি দমন কমিশন জানায়, প্রশান্ত কুমার অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থ আড়াল করতে নিজের ও মেয়েদের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে হিসাব খোলেন। মেয়েসহ তাঁর নামে থাকা ১২ ব্যাংক হিসাবে মোট ১৮ কোটি ৫৩ হাজার ৭১৯ টাকা লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
প্রশান্ত কুমার রায়ের গ্রামের বাড়ি খুলনার বটিয়াঘাটা থানার গোপ্তমারী এলাকায়। তিনি বর্তমানে ঢাকার মোহাম্মদপুরের কাদিরাবাদ হাউজিং সোসাইটিতে বসবাস করেন। শিগগিরই তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করবেন বলে জানা গেছে।
এই মামলার তদন্ত চলছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে প্রশান্ত কুমার রায়ের বিরুদ্ধে বিচার শুরু হবে। দুর্নীতি দমন কমিশন তাদের অভিযোগপত্রে উল্লেখিত অভিযোগগুলো প্রমাণ করার চেষ্টা করবে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের এই পদক্ষেপ দেশের দুর্নীতি প্রতিরোধে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এই ধরনের পদক্ষেপ দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রকাশ করে।



