লক্ষ্মীপুরের ইতিহাসে ৪ ডিসেম্বর এক গৌরবময় দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণের মুখে পাকিস্তানি বাহিনী কৌশলে পালিয়ে যায়। লক্ষ্মীপুর সদরের অবরুদ্ধ মানুষ পায় মুক্তির স্বাদ, বিজয়ের আনন্দ।
পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে এই জেলায় প্রথম প্রতিরোধ গড়ে ওঠে এপ্রিল মাসে। স্বাধীনতাকামী জনগণ ও মুক্তিযোদ্ধারা নোয়াখালীর চৌমুহনী থেকে লক্ষ্মীপুর সদর পর্যন্ত প্রধান সড়কের মাদাম ব্রিজ, মন্দারী বাজার ব্রিজ ও চন্দ্রগঞ্জের পশ্চিম বাজার ব্রিজ ভেঙে প্রাথমিক প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
লক্ষ্মীপুর সদরে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে পাকিস্তানি বাহিনীর বেশ কয়েকটি যুদ্ধ হয়। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো দালাল বাজার রাজাকার ক্যাম্প অপারেশন, মান্দারী বাজার রাজাকার ক্যাম্প অপারেশন, প্রতাপগঞ্জ হাইস্কুল আক্রমণ, বড়ালিয়া অপারেশন ইত্যাদি।
৩ ডিসেম্বর গভীর রাতে পাকিস্তানি বাহিনী ক্যাম্পে রাজাকারদের রেখে কৌশলে নোয়াখালীর চৌমুহনীর দিকে পালিয়ে যায়। ৪ ডিসেম্বর সকালে সেই খবর ছড়িয়ে পড়তেই মুক্তির আনন্দে উল্লাসে ফেটে পড়েন লক্ষ্মীপুরের মানুষ।
নভেম্বরের দিকে সম্মুখযুদ্ধ বাড়তে থাকে। সেই সময়ের স্মৃতিচারণা করে স্থানীয় দুই বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবুল আলম ও খোরশেদ আলম পাটোয়ারী (ফিরোজ) বলেন, নভেম্বর থেকেই পাকিস্তানি বাহিনী ক্রমে কোণঠাসা হয়ে পড়ছিল। সীমিত চলাফেরা করত। অবস্থান ছিল শুধু বাগবাড়ির মাদাম ও থানার ক্যাম্পে।
লক্ষ্মীপুরের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ইতিহাস আমাদের দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক অংশ। এই ইতিহাস আমাদের শিক্ষা দেয় যে কীভাবে আমাদের জনগণ স্বাধীনতা অর্জনের জন্য লড়াই করেছে।
লক্ষ্মীপুরের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস আমাদের দেশের ইতিহাসের এক অংশ। এই ইতিহাস আমাদের শিক্ষা দেয় যে কীভাবে আমাদের জনগণ স্বাধীনতা অর্জনের জন্য লড়াই করেছে। এই ইতিহাস আমাদের অনুপ্রেরণা দেয় যে আমরা আমাদের দেশের জন্য কীভাবে কাজ করতে পারি।



