শ্রীলঙ্কায় ঘূর্ণিঝড় ডিতওয়াহর প্রভাবে বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ৪৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও ৩৬৬ জন নিখোঁজ এবং প্রায় ১৫ লাখেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই দুর্যোগের মধ্যে পাকিস্তান থেকে পাঠানো মেয়াদোত্তীর্ণ ত্রাণ নিয়ে কলম্বোর সমালোচনার মুখে পড়েছে শেহবাজ শরীফের সরকার।
পাকিস্তান থেকে আসা মানবিক ত্রাণের চালানে চিকিৎসা উপকরণ, ওষুধ, খাবারের প্যাকেট ও অন্যান্য নিত্য পণ্য ছিল। কিন্তু কলম্বোর কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, ইসলামাবাদ থেকে ত্রাণ হিসেবে পাঠানো কিছু পণ্যের মেয়াদ ইতোমধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে। বন্যা ও ভূমিধসের প্রেক্ষাপটে জরুরি সহায়তা হিসেবে আসা ত্রাণ উপকরণগুলো পরীক্ষা করে কর্মকর্তারা বেশ কয়েকটি কার্টনে মেয়াদোত্তীর্ণ ও ব্যবহারের অনুপযোগী পণ্য চিহ্নিত করেন।
এই ঘটনার পর ত্রাণ পরীক্ষার বিধি আরও কঠোর করা হয়েছে, বিশেষত যেসব দেশ থেকে নিম্নমানের ত্রাণ আসার নজির আছে, তাদের ক্ষেত্রে। পাকিস্তানের ত্রাণ কূটনীতি আগেও সমালোচিত হয়েছে; ২০১৫ সালে নেপালে ভূমিকম্পের সময় হিন্দু অধ্যুষিত নেপালে গরুর মাংস দিয়ে তৈরি খাবার পাঠিয়ে ব্যাপক জনরোষ ও নিন্দার মুখে পড়েছিল ইসলামাবাদ।
শ্রীলঙ্কায় দুর্যোগ মোকাবিলায় জরুরি অবস্থা জারি করেছেন প্রেসিডেন্ট অনুঢ়া কুমারা দিশানায়েকে, তিনি একে শ্রীলঙ্কার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলে অভিহিত করেন। এই ঘটনা শ্রীলঙ্কার সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভ তৈরি করেছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টিকে অপমান ও ত্রাণ কূটনীতির নামে রসিকতা আখ্যা দেন এবং সরকারকে পাকিস্তানের কাছে জবাব চাওয়ারও আহ্বান জানান।
কূটনৈতিক পরিভাষায়, এই ঘটনাটি পাকিস্তানের জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর, বিশেষত এমন সময় ঘটনাটি ঘটল, যখন দেশটি ভারত মহাসাগরে তাদের উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। শ্রীলঙ্কার কর্মকর্তারা বলছেন, পাকিস্তানের কাছ থেকে আসা মানবিক সহায়তার গুণগত মান এবং এ বিষয়টিকে তারা ঠিক কতখানি গুরুত্ব দেয়, তা এখন প্রশ্নবিদ্ধ।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত শ্রীলঙ্কাকে সহায়তা প্রদান করা। পাকিস্তানের উচিত তাদের ত্রাণ কূটনীতির পুনর্বিবেচনা করা এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা এড়ানোর জন্য পদক্ষেপ নেওয়া। শ্রীলঙ্কার জনগণের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে, আমরা তাদের দুর্যোগ মোকাবিলায় সহায়তা প্রদানের জন্য প্রস্তুত।



