ভারতের রাশিয়ার তেল আমদানি হ্রাস অস্থায়ী হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। রাশিয়া ভারতে তেল সরবরাহ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। ভারত রাশিয়ার সামুদ্রিক তেলের বৃহত্তম ক্রেতা। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার চাপের মধ্যে ভারত রাশিয়া থেকে কাঁচাতেল আমদানি কমিয়ে দিয়েছে।
রাশিয়া ভারতের প্রধান তেল সরবরাহকারী। ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারী ও ব্যবহারকারী দেশ। এই মাসে ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনার পরিমাণ কমিয়ে আনবে বলে মনে করা হচ্ছে। এটি অন্তত তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন হবে। এর কারণ হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার শীর্ষস্থানীয় তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান রসনেফট ও লুকয়েলকে নিষিদ্ধ করেছে।
রাশিয়ার ক্রেমলিন মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ ভারতীয় সাংবাদিকদের বলেছেন, রাশিয়া ভারতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি সরবরাহকারী। তিনি বলেছেন, তৃতীয় দেশের প্রভাব এড়ানোর জন্য বাণিজ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা দরকার। রাশিয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে বাণিজ্য করার।
ভারতীয় শোধনাগারগুলো, যেমন ম্যাঙ্গালোর রিফাইনারি অ্যান্ড পেট্রোকেমিক্যালস লিমিটেড, হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন এবং এইচপিসিএল-মিট্টাল এনার্জি লিমিটেড, রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করে দিয়েছে। সরকারি মালিকানাধীন ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন অ-নিষিদ্ধ সংস্থা থেকে রাশিয়ার তেল কেনার অর্ডার দিয়েছে। ভারতীয় পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন রাশিয়ার তেল আমদানির জন্য এগোবেগো আলোচনায় রয়েছে।
রাশিয়া-সমর্থিত ভারতীয় শোধনাগার নায়ারা এনার্জি, যার অংশীদারিত্ব রয়েছে রসনেফটের, অন্য সরবরাহকারীরা পিছু হটলে শুধুমাত্র রাশিয়ার তেলই প্রক্রিয়া করছে। রাশিয়া চায় ভারত নায়ারা এনার্জিকে সমর্থন দেবে যাতে তারা স্থানীয় বিক্রয় ও ক্ষমতা ব্যবহার বাড়াতে পারে। রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, যেটি একসময় রাশিয়ার প্রধান ভারতীয় তেল ক্রেতা ছিল, বলেছে যে তারা ২২শে অক্টোবরের আগে যে রাশিয়ান তেলের পরিমাণ পাওয়ার কথা ছিল তা নেবে এবং ২০শে নভেম্বরের পরে যে কোনও পরিমাণ পাওয়া গেলে তা প্রক্রিয়া করবে।
ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে তেল বাণিজ্য ভবিষ্যতে কীভাবে গড়ে উঠবে তা নিয়ে সবাই নজর রাখছে। রাশিয়ার পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভারতে তেল সরবরাহ বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই পরিস্থিতি ভারতের জন্য কীভাবে উপকারী হবে তা দেখার জন্য সবাই অপেক্ষা করছে।
ভারতের তেল আমদানি নীতি এবং রাশিয়ার সাথে বাণিজ্য সম্পর্ক ভবিষ্যতে কীভাবে গড়ে উঠবে তা নিয়ে অনেক অনিশ্চয়তা রয়েছে। তবে, একটি বিষয় নিশ্চিত যে ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও গভীর হবে।



