লাওস একটি ছোট্ট দেশ যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অবস্থিত। এই দেশটি ২ ডিসেম্বর তার জাতীয় দিবস পালন করে। এই দিনে, ১৯৭৫ সালে, লাওস তার দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ এবং রাজতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে একটি গণপ্রজাতন্ত্রী রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করে।
লাওসের স্বাধীনতার ইতিহাস খুবই ত্যাগের মহিমায় উজ্জ্বল। এই দেশটি একসময় ফরাসি উপনিবেশ ছিল। ১৯৫৩ সালে, ফ্রান্সের কাছ থেকে সাংবিধানিক রাজতন্ত্র হিসেবে স্বাধীনতা পেলেও, শান্তি তাদের ধরা দেয়নি। ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময়, লাওস একটি ভয়াবহ ও অসম যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে, যা ইতিহাসে ‘গোপন যুদ্ধ’ নামে পরিচিত।
স্নায়ুযুদ্ধের সেই উত্তাল সময়ে, যুক্তরাষ্ট্র লাওসের ওপর বিপুল পরিমাণ বোমা বর্ষণ করে, যা মাথাপিছু হিসেবে ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি। কিন্তু লাওসের বিপ্লবী সংগঠন ‘পাথেত লাও’ হার মানেনি। তারা জঙ্গলে, গুহায় ও পাহাড়ের আড়ালে লুকিয়ে থেকে লড়াই চালিয়ে গেছে।
১৯৭৫ সাল ছিল পরিবর্তনের বছর। ভিয়েতনামে মার্কিন আগ্রাসনের পতনের পর, লাওসেও বিপ্লবীরা শক্তিশালী হয়ে ওঠে। দীর্ঘ সংগ্রামের পর, ১৯৭৫ সালের ২ ডিসেম্বর, ৬০০ বছরের পুরোনো রাজতন্ত্রের আনুষ্ঠানিক পতন ঘটে এবং রাজা সাভাঙ্গ ভাত্তানা পদত্যাগ করেন। প্রিন্স সুফানৌভং, যিনি ‘লাল রাজপুত্র’ নামে পরিচিত ছিলেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। প্রতিষ্ঠিত হয় ‘লাও পিপলস ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক’।
প্রতিবছর ডিসেম্বরের শুরুতে, লাওসের রাজধানী ভিয়েনতিয়েন লাল-নীল পতাকায় ছেয়ে যায়। পতাকার মাঝখানের সাদা বৃত্তটি মেকং নদীর ওপর পূর্ণিমার চাঁদের প্রতীক, যা একই সঙ্গে দেশটির জনগণের ঐক্যের বার্তাও বহন করে। লাওসের এই বিজয় আমাদের শেখায়, বিশ্বের পরাশক্তি যত বড়ই হোক না কেন, মাটির প্রতি ভালোবাসা আর স্বাধীনতার অদম্য আকাঙ্ক্ষার কাছে তাদের নতি স্বীকার করতেই হয়।
লাওসের জাতীয় দিবস আমাদের ১৬ ডিসেম্বরের মতোই স্বাধীনতার এক অনন্য দলিল। এই দিনটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, স্বাধীনতা অর্জন করতে কতটা সংগ্রাম করতে হয়। লাওসের জনগণের স্বাধীনতার লড়াই আমাদের অনুপ্রেরণা দেয় এবং আমাদের নিজেদের দেশের স্বাধীনতার মূল্য বুঝতে সাহায্য করে।
লাওসের জাতীয় দিবস পালন করা মানে হলো স্বাধীনতার মূল্য বোঝা এবং তা রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি নেওয়া। আমরা লাওসের জনগণের সাথে তাদের জাতীয় দিবসে যোগ দিয়ে তাদের স্বাধীনতার লড়াইয়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারি।



