ইসলামিক বক্তা আবু ত্বহা মুহাম্মদ আদনান ও তার প্রাক্তন স্ত্রী সাবিকুন নাহারের মধ্যে গত ২১ অক্টোবর বিচ্ছেদ ঘটেছিল। কিন্তু মাত্র এক মাসের মধ্যেই তারা আবারও বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। এই তথ্য নিজেই সাবিকুন নাহার জানিয়েছেন।
সাবিকুন নাহার তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, দুনিয়াটা ক্ষণস্থায়ী। পুরোদস্তুর ধোঁকা, নিখাঁদ এক প্রতারণা। কত দিনই আর বাঁচব আমরা এই দুনিয়ায়? অনন্ত পরকালের চুলচেড়া হিসাব আর চিরস্থায়ী জান্নাতের সাফল্যই যে সব!
সাবিকুন নাহার আরও লিখেছেন, বাচ্চারা বাবা-মাকে খোঁজে। প্রতিনিয়ত আয়িশা তার বাবাকে খোঁজে! বাবা যাব! বাবা গাড়ি! বাবা কই? শব্দগুলোর ওজন উঠানোর কোনো পরিমাপক মহাবিশ্বে নেই। উসমানও মাকে পাচ্ছে না। উসমানের সামনে অন্যরা তাদের মায়ের নিকট আম্মু বলে ছুটে যাচ্ছে।
সাবিকুন নাহার বলেছেন, যা ঘটে গেছে তার অনিবার্য পরিণতি যে এটাই তা হয়তো আমরা জানতাম, তবে জানা আর প্রতিনিয়ত উপলব্ধি করা যে কখনোই এক নয়! ইলমুল ইয়াক্বিন আর হাক্কুল ইয়াক্বিনে আছে আকাশসম ফারাক। জানা বিষয়টি উপলব্ধি করেছি আমরা। বেশাক আমাদের ভুল ছিল। কিছু ভুল বুঝেছি, বোঝানোও হয়েছে!
সাবিকুন নাহার আরও বলেছেন, হয়তো এভাবেই আমাদের ভাগ্য লেখা হয়েছিল। তাকদিরের কাছে তো অনেক বড়রাও অসহায় ছিলেন, যেমন গ্রহণের সময় নিরূপায় থাকে চাঁদের আলো। তাই বলে কি চাঁদ কস্মিনকালেও কলঙ্কিত? সে যে আজন্ম আমার চাঁদ-ই ছিল! দুরাচার শয়তান সঠিক সময়ে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে বারবার! শুভ্র, স্বচ্ছ, সুন্দরে, চিন্তায় ইবলিসকে তাই ঠাঁই দিইনি আর। ফা লিল্লাহিল হামদ! অতঃপর… আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন। আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন। আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন। উসমান ও আয়িশা তাদের বাবা-মাকে ফিরে পেয়েছে! আল্লাহুম্মা লাকাল হামদ।
এই ঘটনায় অনেকেই অবাক হয়েছেন। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন, কীভাবে এক মাসের মধ্যেই তারা আবারও বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন? কিন্তু সাবিকুন নাহার তার পোস্টে স্পষ্ট করেছেন, তারা তাদের ভুল স্বীকার করেছেন এবং একে অপরকে ক্ষমা করেছেন। এটা একটা সুন্দর উদাহরণ, যে ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে আবারও একসঙ্গে থাকা সম্ভব।
আবু ত্বহা ও সাবিকুন নাহারের এই ঘটনাটি আমাদেরকে ভাবিয়ে তোলে, পরিবার কতটা গুরুত্বপূর্ণ। বাচ্চাদের জন্য বাবা-মায়ের একসঙ্গে থাকা কতটা জরুরি। আসুন আমরা সবাই এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিই এবং পরিবারের গুরুত্বকে সম্মান করি।



