ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী পরিবারের জীবিকা গানের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু কিছুদিন আগে একদল শিক্ষার্থীর হুমকির কারণে তারা গান বন্ধ করে দেয়। এতে তাদের রোজগার বন্ধ হয়ে যায়। তবে সম্প্রতি তারা আবার গানে ফিরেছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের নাটাই উত্তর ইউনিয়নের রাজঘর গ্রামের বাসিন্দা হেলাল মিয়া। তাঁর চার ছেলে, এক মেয়ে, দুই নাতি এবং এক নাতনিও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। তাঁরা সকলেই গান করে জীবিকা নির্বাহ করেন। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত জেলা শহরের পৌর মুক্তমঞ্চ মাঠে গানের আসর জমান হেলাল ও তাঁর পাঁচ সন্তান।
গত ২৬ নভেম্বর সকালে কয়েকজন এসে গানবাজনা বন্ধ করে ভিক্ষা করতে বলে। তাদের কথা না শুনলে বাদ্যযন্ত্র ভাঙচুর করবেন হুমকি দেন তারা। ভয়ে হেলাল ও তাঁর পরিবার আর গান করেনি। এতে তাদের রোজগার বন্ধ হয়ে যায়।
তবে সম্প্রতি জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান মোল্লা কচির অভয় দেওয়ার পর হেলাল ও তাঁর পরিবার আবার গানে ফিরেছে। মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) জেলা শহরের পৌর মুক্তমঞ্চ মাঠে গান করেন তাঁরা। পরিবারের উপার্জনের চাকা ঘুরলেও ভয় কাটেনি জন্মান্ধ পরিবারটির। কারণ হিসেবে তারা জানিয়েছেন, হুমকির ঘটনায় এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ।
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ওবায়দুর রহমান জানিয়েছেন, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী পরিবারকে গান গাইতে বাঁধার বিষয়ে কোনো অভিযোগ তারা পাননি। খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। এমন কিছু পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হেলাল মিয়ার পরিবার গান করে জীবিকা নির্বাহ করে। তাঁরা মারফতি, মুর্শিদী, কাওয়ালীর মতো আধ্যাত্মিক গানগুলো গায়। তাঁদের গানের আসরে যোগ দেন নানা বয়সী মানুষ। তারা খুশি টাকা দেন। তা দিয়েই চলে সংসার।
হেলাল মিয়ার পরিবারের গান শুনতে ভালোবাসেন অনেকে। তাঁরা গান করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তবে হুমকির কারণে তাঁরা গান বন্ধ করে দিয়েছিলেন। এখন তাঁরা আবার গানে ফিরেছেন। তাঁদের গান শুনতে ভালোবাসেন অনেকে।



