ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হেলাল মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা আবারও গান শুরু করেছেন। গত ছয় দিন ধরে তারা গান বন্ধ রেখেছিলেন কিছু বাধার মুখে। মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে জেলা শহরের পৌর মুক্তমঞ্চ মাঠে গান গাইতে আসেন তারা।
হেলাল মিয়া বলেন, গত ছয়দিন রোজগার বন্ধ থাকায় চলতে খুব কষ্ট হয়েছে। আজকে থেকে আবার গান শুরু করেছি। তবে যে জায়গাটিতে বসতাম, সেটি হকাররা দখল করে ফেলেছে। পাশের একটি জায়গায় আজকে গান করেছি।
এর আগে গত ২৭ নভেম্বর দুপুরে কয়েকজন এসে হেলাল মিয়াকে গানবাজনা বন্ধ করে ভিক্ষাবৃত্তি করার জন্য বলেন। এতে করে আতঙ্কে গান বন্ধ করে দেন হেলাল ও পরিবারের সদস্যরা। ফলে তাদের রোজগার বন্ধ হয়ে যায়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নাটাই উত্তর ইউনিয়নের রাজঘর গ্রামের বাসিন্দা হেলাল মিয়া জন্ম থেকেই অন্ধ। তিনি ছাড়াও তার চার ছেলে ও এক মেয়ে এবং দুই নাতি ও এক নাতনি দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল হলেও ভিক্ষাবৃত্তি না করে বরং মানুষকে গান শুনিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন তিনি।
প্রায় পাঁচ দশক ধরে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত জেলা শহরের পৌর মুক্তমঞ্চ মাঠে গানের আসর জমান হেলাল ও তার পাঁচ ছেলে-মেয়ে। তাদের কণ্ঠে গানের সুর উঠতেই জমে ওঠে আসর। যোগ দেন নানা বয়সী মানুষ।
এভাবেই প্রতিদিন হেলাল ও তার সন্তানদের গান শুনে খুশি হয়ে টাকা দেন মানুষজন। আর সেই টাকা দিয়ে জীবন চলছে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী পরিবারটির।
হেলাল মিয়া বলেন, হুমকির বিষয়টি জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান মোল্লাকে জানানোর পর তিনি মঙ্গলবার থেকে তাদের আবার গানের আসর জমাতে অভয় দেন।
তিনি বলেন, “আজকে কোনো সমস্যা হয়নি। তবে এখনও ভয়ে আছি-যদি আবার কিছু হয়৷ এর আগেও দুই দফা গান বন্ধের হুমকি দেওয়া হয়েছিল।”
হেলাল মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা আশা করছেন যে তারা আর কোনো বাধার মুখে পড়বেন না। তারা চান যে তারা নির্বিঘ্নে গান গাইতে পারবেন এবং তাদের জীবিকা নির্বাহ করতে পারবেন।



