বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে একটি নতুন মোড় ঘটতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বিএনপি ও এনসিপির মধ্যে দায়িত্বশীল ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকট ব্যক্তি বা দলের সংকট নয়, বরং এটি একটি গভীর রাষ্ট্রগত সংকট।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মনে করেন, বিএনপি ও এনসিপি গণতান্ত্রিক জাতীয়তাবাদী ধারার দুটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। তিনি বলেছেন, দেশের বৃহত্তর সংকট দুটি রাজনৈতিক ধারার আধিপত্যে আটকে আছে – মুজিববাদ ও মওদূদীবাদ। তিনি মনে করেন, এই দ্বৈত আধিপত্যের ফলে দেশের রাষ্ট্র, সংস্কৃতি, অর্থনীতি ও প্রশাসনিক কাঠামো ক্রমেই ভেঙে পড়েছে।
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক বলেছেন, প্রক্সি রাজনীতির ফলে দেশটি একটি দীর্ঘ ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। তিনি মনে করেন, ২০২৪-এর গণ অভ্যুত্থানের পর দেশটি প্রক্সি রাজনীতির দাসত্ব থেকে বের হয়ে সাম্য, মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে নতুন রাষ্ট্রীয় কাঠামো নির্মাণের লক্ষ্য ছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে শিবির তার কিছু কল্যাণমূলক কাজের আড়ালে ছাত্রসমাজকে জামায়াতের হাতে তুলে দিল, কিছু পদ-পদবি ও আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে। ফলে দেশটি আবারও পুরোনো প্রক্সি রাজনীতির ঘূর্ণিপাকে ঠেলে দেওয়া হলো।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, আজ দেশপ্রেমিক শক্তির সামনে একসাথে দুটি যুদ্ধ রয়েছে: মুজিববাদ ও মওদূদীবাদের কর্তৃত্ববাদী রাজনীতির বিরুদ্ধে সংগ্রাম এবং একটি নতুন, ন্যায়ভিত্তিক, আধুনিক রাষ্ট্র গঠনের দায়ভার। তিনি মনে করেন, এই দুই যুদ্ধ একা কোনো দল লড়তে পারবে না। বিএনপি ও এনসিপি – গণতান্ত্রিক জাতীয়তাবাদী ধারার দুই শক্তির মধ্যে একটি দায়িত্বশীল ঐক্যের প্রয়োজন।
এই ঐক্যের জন্য নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কয়েকটি শর্তও তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, বিএনপি যখন জনগণের কাছে তার ঐতিহাসিক আবেদন হারিয়েছে, তখন তারা প্রতিষ্ঠানের ছায়ায় আশ্রয় খুঁজেছে। তবুও আশা থাকে, নতুন প্রজন্ম যদি সত্যিই জেগে ওঠে, তারা পরিবারতন্ত্রের গণ্ডি ভেঙে আবারও জনপদের রাজনীতিতে ফিরতে পারে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর এই বক্তব্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে একটি নতুন মোড় ঘটাতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিএনপি ও এনসিপির মধ্যে দায়িত্বশীল ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি দেশের রাজনৈতিক সংকট সমাধানের একটি নতুন পথ দেখাচ্ছেন।



