ঢাকার শাহজাহানপুরে এক গৃহবধূর হত্যার মামলায় তার স্বামী ও দেবরকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত। স্বামী আশিকুর রহমান আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন, যেখানে তিনি নিজের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
গত ৪ নভেম্বর মালিবাগের বকশিবাগের একটি ভাড়া বাসা থেকে সুরুবী আক্তার মাহফুজার বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সেদিনই শাহজাহানপুর থানায় মামলা করেন তার বাবা নুরুল হক। মামলায় অভিযোগ করা হয়, বিয়ের পর থেকে সুরবী ও তার স্বামীর মধ্যে ‘কলহ ছিল’।
সোমবার পঞ্চগড়ের হাড়িভাঙা ইউনিয়নের বুকধুলিপাড়া সাকিনস্থ ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে আশিকুর রহমান ও সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মঙ্গলবার তাদের আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহজাহানপুর থানার এসআই মহসিন তালুকদার।
আশিকুর আদালতে জবানবন্দি দিতে চাইলে তা রেকর্ডের আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। অপরদিকে সাইফুলকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করা হয়। তার আইনজীবী তৈয়বুর রহমান জামিন চেয়ে করা আবেদনের ওপর শুনানি করেন। উভয়ের আবেদনের শুনানি নিয়ে পরে আদেশ দেয় পৃথক আদালত।
প্রসিকিউশন বিভাগের এএসআই মামুন হোসেন এসব তথ্য দিয়েছেন। ‘প্রেমের সম্পর্কের পর’ সুরুবী ও আশিকুরের বিয়ে হয়েছিল ২০১৯ সালে। তাদের চার বছরের একটি ছেলে রয়েছে।
গত ১ নভেম্বর থেকে মালিবাগের বকশিবাগের বাসাটি তারা ভাড়া নেন। সেদিনই ওই বাসা থেকে তাদের ছেলেকে গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরের জাজিরার পালেরচরে নিয়ে যান সাইফুল (সুরুবীর দেবর)। এরপর ৩ নভেম্বর রাতে ‘আশিকুর ও তার সহযোগীরা’ মাহফুজাকে হত্যা করেন। লাশ বস্থাবন্দি করে পরদিন দুপুরে তারা পালিয়ে যান।
পরবর্তীতে সুরুবীর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে প্রতিবেশীরা তাকে ডাকেন। দরজা ধাক্কানোর একপর্যায়ে সেটি খুলে যায়। বাসার ভেতরে প্লাস্টিকের বস্তায় লাশ বুঝতে পেরে তারা পুলিশ ডাকেন। এরপর পুলিশ গিয়ে সেটি উদ্ধার করে।
এই মামলার তদন্ত চলছে। পুলিশ আশা করছে যে তারা শীঘ্রই এই মামলার সমাধান করতে সক্ষম হবেন।



