চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বাসিন্দা ও জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতা জামাল উদ্দিন চৌধুরীর হত্যাকাণ্ডের ২২ বছর পার হলেও এখনও বিচার শেষ হয়নি। ২০০৩ সালের ২৪ জুলাই রাতে চট্টগ্রাম নগরের চকবাজারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে বাসায় ফেরার পথে তাঁকে অপহরণ করা হয়। তাঁর পরিবার অপহরণকারী চক্রকে ২৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দেয়, কিন্তু জামাল উদ্দিনকে মুক্তি দেওয়া হয়নি।
দুই বছর পর ২০০৫ সালের ২৪ আগস্ট চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির পাহাড়ি এলাকা থেকে তাঁর কঙ্কাল উদ্ধার করে র্যাব। সিঙ্গাপুরে ডিএনএ পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া যায়, উদ্ধার হওয়া কঙ্কালটি জামাল উদ্দিনের। পরিবারের দাবি, সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচনের জন্য বিএনপি থেকে মনোনয়ন চাওয়ায় খুন করা হয় জামালকে।
এ ঘটনায় আসামিদের জবানবন্দি এবং তদন্তে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বিএনপির কয়েকজন নেতার সংশ্লিষ্টতা উঠে আসে। তবে জবানবন্দিতে নাম আসা বিএনপির এসব নেতাসহ ২৪ জনকে বাদ দিয়েই আদালতে অভিযোগপত্র দেন তদন্ত কর্মকর্তা। যার কারণে অভিযোগপত্রের ওপর নারাজি দেন বাদী। তবে আদালত সেটি খারিজ করেই মামলার বিচার শুরু করেন।
বর্তমানে ষষ্ঠ অতিরিক্ত চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতে মামলাটির বিচার চলছে। তদন্তে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতায় নাম আসা ব্যক্তিদের অনেকেই অভিযোগপত্র থেকে বাদ পড়ায় মামলাটির বিচারের আশা ছেড়ে দিয়েছেন মামলার বাদী ও নিহত ব্যক্তির ছেলে চৌধুরী ফরমান রেজা লিটন। তাই তিনি হাজির হচ্ছেন না সাক্ষ্য দিতে।
পরিবারের দাবি, নতুন করে সেই মামলা তদন্ত করে বিচার শুরু করা হোক। নিহত ব্যক্তির পরিবার এখনও বিচারের আশায় অপেক্ষা করছে। কিন্তু মামলার বিচার শেষ হতে আরও বহু দিন লাগবে বলে মনে হচ্ছে।



