সুনামগঞ্জের ছাতকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর দখলে ছিল। এই অঞ্চলটি মুক্ত করার জন্য মুক্তিবাহিনী অক্টোবর মাসে ছাতক অপারেশনের পরিকল্পনা করে। এই যুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর জেড ফোর্সের তৃতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট অংশ নেয়।
সুনামগঞ্জের যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান বলেন, ছাতকের যুদ্ধ ছিল ভয়াবহ। তিনি বলেন, এই যুদ্ধে তিনি আহত হয়েছিলেন। সুনামগঞ্জ অঞ্চলে এটিই ছিল সবচেয়ে বড় যুদ্ধ।
পাকিস্তানি বাহিনীর ব্রিগেডিয়ার সিদ্দিক সালিক তাঁর বইতে স্বীকার করেছেন যে ছাতক যুদ্ধে তারা বেকায়দায় পড়েছিল। মুক্তিবাহিনীর সেক্টর কমান্ডার লে. কর্নেল মীর শওকত আলী ছাতক অপারেশনের নেতৃত্ব দেন।
ছাতক যুদ্ধে পাঁচ দিন ধরে চলে। এই যুদ্ধে ২৫ থেকে ৩০ জন মুক্তিযোদ্ধা নিহত হন। সুনামগঞ্জের বীর মুক্তিযোদ্ধা বজলুল মজিদ চৌধুরী ছাতক যুদ্ধে সরাসরি অংশ নেন। তিনি তাঁর বইতে এই যুদ্ধ সম্পর্কে লিখেছেন।
ছাতক শহর ও সিমেন্ট ফ্যাক্টরি ঘিরে পাকিস্তানি বাহিনীর শক্ত প্রতিরক্ষা অবস্থান ছিল। এই এলাকায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ৩১ পাঞ্জাব রেজিমেন্টের এক কোম্পানি সেনা ছিল। সঙ্গে ছিল ১২ আজাদ-কাশ্মীর ফোর্স, ইস্ট পাকিস্তান সিভিল আর্মড ফোর্স ও স্থানীয় রাজাকারদের দল।
মুক্তিবাহিনীর জেড ফোর্সের তৃতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট গারো পাহাড়ের তেলঢালা ক্যাম্প থেকে বাঁশতলায় আসে। এই রেজিমেন্টের অধিনায়ক মেজর শাফায়াত জামিল। ছাতক যুদ্ধে মুক্তিবাহিনী পাকিস্তানি বাহিনীকে বেকায়দায় ফেলে দেয়।
ছাতক যুদ্ধ মুক্তিযুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এই যুদ্ধে মুক্তিবাহিনী পাকিস্তানি বাহিনীকে পরাজিত করে। এই বিজয় মুক্তিযুদ্ধের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
ছাতক যুদ্ধের ইতিহাস মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের একটি অংশ। এই যুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর সাহস ও বীরত্ব প্রকাশ পেয়েছে। এই যুদ্ধ মুক্তিযুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।



