ঢাকায় ভবন নির্মাণের খরচ বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় নতুন ফি নির্ধারণ করেছে। এই ফি অনুযায়ী, আবাসিক ভবন নির্মাণের অনুমোদন নিতে প্রতি বর্গমিটারে ৫০ টাকা ফি দিতে হবে। বাণিজ্যিক ও শিল্পকারখানার ক্ষেত্রে প্রতি বর্গমিটারে ১৫০ টাকা পর্যন্ত ফি হতে পারে।
মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডার মতো ধর্মীয় উপাসনালয়ের ক্ষেত্রে ফি লাগবে না। তবে এসব উপাসনালয়ের কোনো অংশ অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যাবে না। বর্তমানে আবাসিক ভবনের সব তলার মোট মেঝে এলাকা (ফ্লোর এরিয়া) অনুযায়ী ১৬টি স্তরে ফি নির্ধারণ করা আছে।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, গত মাসের তৃতীয় সপ্তাহে নতুন ফির বিষয়ে সম্মতি চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে চিঠি পাঠায় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। চিঠিতে রাজউকের সুপারিশ অনুযায়ী সংশোধিত ফি অনুমোদনের অনুরোধ করা হয়েছে।
আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাবের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি লিয়াকত আলী ভূঁইয়া বলেন, ‘ইমারত নির্মাণ অনুমোদন নিতে প্রতি বর্গমিটারে ৫০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত ফি দিতে হলে আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণে নতুন করে খরচ বাড়বে। এতে ফ্ল্যাট ও বাণিজ্যিক ভবনের জায়গার দাম বাড়তে পারে, যা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য অসুবিধাজনক। আশা করছি সরকার বিষয়টি বিবেচনা নিয়ে ফি হাতের নাগালে রাখবে।
এদিকে রাজধানীর নতুন বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা বা ড্যাপ সংশোধনের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকার ভবনের উচ্চতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে ড্যাপ রিভিউ-সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটি। ড্যাপ সংশোধনের বিষয়টিও নতুন বিধিমালায় থাকবে বলে জানিয়েছেন রাজউক কর্মকর্তারা।
রাজউকের উপনগর-পরিকল্পনাবিদ মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নকশা অনুমোদনের সময় দেখা যায়, এক-দুই বর্গমিটারের জন্য ফি কমবেশি হয়। এই ফি বৃদ্ধির ফলে ভবন নির্মাণের খরচ বাড়বে। এতে ফ্ল্যাট ও বাণিজ্যিক ভবনের দামও বাড়তে পারে।
এই ফি বৃদ্ধির ফলে আবাসন খাতে বিনিয়োগ কমতে পারে। এছাড়াও এই ফি বৃদ্ধির ফলে ভবন নির্মাণের খরচ বাড়লে সাধারণ মানুষের জন্য আবাসন ক্রয় করা কঠিন হয়ে পড়বে। তাই সরকারকে এই ফি বৃদ্ধির বিষয়ে পুনর্বিবেচনা করা উচিত।



