বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি ৯টি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে বন্ধ করার অনুমোদন দিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক রেগুলেশন অর্ডিন্যান্স ২০২৫ অনুযায়ী। এখন এই প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করা, লিকুইডেটর নিয়োগ, সম্পদ বিক্রি এবং পাওনাদারদের মধ্যে অর্থবণ্টন প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা যাবে।
এই ৯টি প্রতিষ্ঠান হলো এফএএস ফাইন্যান্স, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কম্পানি, প্রিমিয়ার লিজিং, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিং। এই প্রতিষ্ঠানগুলো বছরের পর বছর অনিয়ম, দুর্বল পরিচালনব্যবস্থা ও কেলেঙ্কারির কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের মোট খেলাপি ঋণের ৫২ শতাংশই এই ৯টি প্রতিষ্ঠানের, যার পরিমাণ ২৫ হাজার ৮৯ কোটি টাকা। এই প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন ধরে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ ছিল। মোট ১৫ হাজার ৩৭০ কোটি টাকার আমানত আটকে আছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর জানিয়েছেন, লিকুইডেশন প্রক্রিয়া শুরুর আগেই আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়া হবে। সরকার এ উদ্দেশ্যে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা ফেরতের মৌখিক অনুমোদন দিয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে আর্থিক খাতে একটি নতুন পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। আমানতকারীদের টাকা ফেরত পাওয়া সহজ হবে। তবে, এই প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মচারী ও শেয়ারহোল্ডারদের জন্য এটি একটি বড় ধাক্কা হবে।
এই ঘটনার পর থেকে আর্থিক খাতে একটি নতুন যুগের সূচনা হবে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও সচেতন হতে হবে। তাদের অবশ্যই সঠিক পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তাহলেই আর্থিক খাত স্থিতিশীল থাকবে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে আর্থিক খাতে একটি নতুন দিক দেখা দেবে। আমানতকারীরা তাদের টাকা ফেরত পাবেন। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো আরও সচেতন হবে। আর্থিক খাত স্থিতিশীল থাকবে।



