ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশন ‘আইটেক দিবস’ উদযাপন করেছে। এই অনুষ্ঠানে ভারতীয় হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেন, সাউথ-সাউথ সহযোগিতার ক্ষেত্রে ভারতের অঙ্গীকারের অংশ আইটেক।
এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পাঁচ হাজারের বেশি পেশাদার আইটেক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে যাওয়ার কথা তুলে ধরেন হাই কমিশনার। দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার সেতুবন্ধ এবং অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে কাজ করার বাংলাদেশের আইটেক প্রাক্তনীদের ধন্যবাদ দেন তিনি।
আইটেক প্রাক্তনীদের একই ছাতার নিচে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে আইটেক অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএএবি) অবদানের কথাও স্মরণ করে তিনি। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর), বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন (বিএইসি), বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন সংস্থা (স্পারসো) এবং বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষসহ (বিএলপিএ) কয়েকটি অংশীদার সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গভীর সাংস্কৃতিক সংযোগ তুলে ধরে সঙ্গীত পরিবেশন করেন বাংলাদেশি শিল্পীরা। উন্নয়ন সহায়তা কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১৯৬৪ সালে চালু হওয়া আইটেক ভারত সরকারের অন্যতম প্রধান একটি উদ্যোগ, যার মাধ্যমে বিশ্বের ১৬০টির বেশি দেশে ভারতের উন্নয়ন অভিজ্ঞতা এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সুবিধা দিয়ে আসছে।
প্রতি বছর বিভিন্ন ক্ষেত্রে ৩০০টিরও বেশি প্রশিক্ষণ কোর্সের মাধ্যমে আইটেক অংশীদার দেশগুলোকে ১২ হাজারের বেশি ‘প্রশিক্ষণ স্লট’ দিয়ে থাকে। যার মধ্যে কৃষি, হিসাব, নিরীক্ষা, ব্যবস্থাপনা, সুশাসন অনুশীলন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ, গ্রামীণ উন্নয়ন, জনস্বাস্থ্য, সংসদীয় বিষয়, বিচার বিভাগ, নির্বাচন ব্যবস্থাপনা, তথ্যপ্রযুক্তি, ডেটা অ্যানালিটিক্স, রিমোট সেন্সিং, নবায়নযোগ্য শক্তি, উন্নত কম্পিউটিংও রয়েছে।
আইটেক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সহযোগিতা ও বন্ধুত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এই কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশি পেশাদাররা ভারতে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে দেশে ফিরে তাদের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান ব্যবহার করছেন। এটি দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা ও বন্ধুত্বকে আরও গভীর করছে।
আইটেক দিবস উদযাপনের মাধ্যমে ভারতীয় হাই কমিশন বাংলাদেশের সাথে তার সহযোগিতা ও বন্ধুত্বের প্রতি অঙ্গীকার প্রকাশ করেছে। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা ও বন্ধুত্বের নতুন দিগন্ত খুলেছে।



