সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে কেউ আগ্রহী নয় বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। এছাড়াও উন্নয়ন কাজের ক্ষেত্রে ঠিকাদারদের আগ্রহও কমে যাওয়ার প্রভাব পড়ছে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে।
শেরে বাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক পরবর্তী ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রশাসনিক সমস্যা এবং ঠিকাদারদের অনাগ্রহের কারণে উন্নয়ন কাজে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।
পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, সরকারি ক্রয় নীতিমালার পরিবর্তনের কারণে ঠিকাদাররা উন্নয়ন কাজে আগ্রহী হচ্ছে না। নতুন নীতিমালায় স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা বাড়ানো হয়েছে, যার ফলে অনেক ঠিকাদার এই কাজে আগ্রহী হচ্ছে না।
এদিন শেরে বাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পরিকল্পনা কমিশন চত্বরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক পরবর্তী ব্রিফিংয়ে আসেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা।
পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, চলতি অর্থবছরের প্রায় মাঝামাঝি এসেও সরকারের নানা তাগাদার পরও এডিপি বাস্তবায়ন ‘গতিশীল’ করতে না পারার হতাশা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এটার পেছনে আগের সে সমস্যাগুলো তো রয়েই গেছে। প্রকল্পগুলোর যেই… কি বলে এদেরকে… প্রকল্প পরিচালকদের সমস্যা রয়েই গেছে।
পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, মুশকিল হল যে এখন কেউ প্রকল্প পরিচালক হতে চাচ্ছেন না। আর ঠিকাদাররাও এখন বেশি উৎসাহী হচ্ছে না। এটাতে (সরকারি ক্রয় নীতি ২০০৫) খুব বড় ধরনের একটা সংস্কার হয়েছে। এবং এখানে একচেটিয়া কেউ নিতে পারবে না। বেনামে কেউ নিতে পারবে না। একজনে নিয়ে… প্রভাবশালী একজন নিয়ে- আসলে নিজে কাজ না করে অন্যকে দেওয়া, সেটার সুযোগ নাই। যাদেরকে দেওয়া হবে তাদের পূর্ণ তথ্য থাকতে হবে। তাদের ব্যবসা বাণিজ্য, তাদের কর পরিশোধ সবকিছু উন্মুক্ত থাকতে হবে। তাদের সাথে সম্পর্কিত অন্য ব্যবসা থাকলে সেগুলোরও সব তথ্য দিতে হবে। কাজেই সহজে কেউ তো এগিয়ে আসবে না।
পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের এই মন্তব্য থেকে বোঝা যায় যে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে পরিচালক এবং ঠিকাদারদের অনাগ্রহের কারণে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।



