বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নে টিউলিপ সিদ্দিককে প্লট দুর্নীতির অভিযোগে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ঢাকার চতুর্থ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক রবিউল আলম সোমবার এই রায় দেন।
টিউলিপ সিদ্দিক বলেছেন, এই প্রক্রিয়াটি ‘ত্রুটিপূর্ণ ও প্রহসনমূলক’। তিনি বলেছেন, এই রায়কে গুরুত্ব দেওয়ার কিছু তিনি দেখছেন না।
প্লট দুর্নীতির অভিযোগে শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানাকেও কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। শেখ রেহানাকে ৭ বছর ও শেখ হাসিনাকে ৫ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এই মামলার অভিযোগ ছিল, ঢাকা শহরে বাড়ি বা ফ্ল্যাট বা আবাসন সুবিধা থাকার পরেও ‘সেই তথ্য গোপন করে আইন ভেঙে দুর্নীতির মাধ্যমে’ শেখ রেহানা পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠার একটি প্লট বরাদ্দ নেন।
শেখ হাসিনা ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’ করে বোনকে প্লট বরাদ্দে ‘সহায়তা’ করেন। এবং ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক তার মা রেহানাকে প্লট পাইয়ে দিতে খালা শেখ হাসিনাকে ‘প্রভাবিত’ করেন।
এসব অভিযোগ অস্বীকার করে টিউলিপ বলে আসছেন, এগুলো ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার’।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগের সরকার পতনের পর শেখ হাসিনা পালিয়ে ভারতে চলে যান। বোন শেখ রেহানাও সে সময় তার সঙ্গে যান। আর টিউলিপ যুক্তরাজ্যেই থাকেন।
তাদের ‘পলাতক’ দেখিয়ে এ মামলার বিচার কাজ চলে। ফলে তাদের পক্ষে কোনো আইনজীবী মামলা লড়ার সুযোগ পাননি।
যুক্তরাজ্যের পাঁচজন শীর্ষস্থানীয় আইনজীবী সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে লেখা এক চিঠিতে এ বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন।
চিঠিতে বলা হয়, যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রতিমন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিক এই মামলা লড়ার ‘ন্যূনতম অধিকারও পাননি’; অভিযোগ সম্পর্কে যথাযথ ধারণা বা আইনজীবীর নিয়োগের সুযোগ–’কিছুই তিনি পাননি’.
বাংলাদেশে টিউলিপ যাকে আইনজীবীকে হিসেবে নিয়োগ দিতে চেয়েছিলেন, তাকে ‘সরে দাঁড়াতে বাধ্য করার পাশাপাশি গৃহবন্দি করা হয় এবং তার মেয়েকে হুমকিও দেওয়া হয়’ বলেও অভিযোগ করা হয় ওই চিঠিতে.
সোমবার রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক রবিউল আলম বলেন, ‘বাংলাদেশের নাগরিক হওয়ায় পৃথিবীর যেখানে অবস্থান করুক না কেন সেই আসামিকে বিচার করা হবে’.
এই রায়ের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিরোধী দলগুলো এই রায়কে ‘রাজনৈতিক প্রতিশোধ’ বলে অভিহিত করছে।
এদিকে, সরকার জানিয়েছে যে তারা এই রায়কে ‘আইনের জয়’ হিসেবে দেখছে। তারা বলছে, এই রায় দেশের বিচার ব্যবস্থার স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতার প্রমাণ।
এই রায়ের পর টিউলিপ সিদ্দিকের রাজনৈতিক ভবিষ্যত সম্পর্কে অনিশ্চয়তা রয়েছে। তবে, তিনি ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন যে তিনি এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন।
এই রায়ের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিরোধী দলগুলো এই রায়কে ‘রাজনৈতিক প্রতিশোধ’ বলে অভিহিত করছে। তারা জানিয়েছে যে তারা এই রায়



