ফেসবুকে এক ধরনের নেটওয়ার্ক সমালোচকদের বিরুদ্ধে ‘রিভিউ-বম্বিং’ করছে। এই নেটওয়ার্কের সদস্যরা সাংবাদিক, গণমাধ্যম, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এবং সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক নেতিবাচক রিভিউ দিচ্ছে। এতে এই পেজগুলোর রেটিং কমে যাচ্ছে।
এই নেটওয়ার্কটি চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ৭২১টি পেজকে লক্ষ্য করেছে। এসব পেজের বিরুদ্ধে ‘ভুল তথ্য ছড়ানো’ থেকে ‘সন্ত্রাসবাদে’ জড়িত থাকার অভিযোগ করা হয়েছে।
গণমাধ্যম বিশ্লেষকদের মতে, এমন রিভিউ জনমতকে বিভ্রান্ত করে। এক সম্পাদক এই তৎপরতাকে ‘অনলাইন মব’ বলেছেন।
সংবাদমাধ্যম বেশি আক্রান্ত হলেও, বাদ পড়েনি অন্যরা। প্রকাশনা সংস্থা, অনলাইন বইয়ের দোকান, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, এমনকি কিছু সরকারি প্রতিষ্ঠানও এই নেটওয়ার্কের লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
ঢাকা স্ট্রিমেরর ওপর হামলা এই নেটওয়ার্কের কার্যপ্রণালীর একটি স্পষ্ট উদাহরণ। গত ১৭ সেপ্টেম্বর ঢাকা স্ট্রিম শেখ হাসিনার এক হিন্দু পরিবারের জমি জোরপূর্বক কেনার অভিযোগ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এর আধা ঘণ্টার মধ্যেই ৩০টি নেতিবাচক রিভিউ পায় ঢাকা স্ট্রিমের ফেসবুক পেজ।
ডিসমিসল্যাবের অনুসন্ধানে আসা ৬০টি অ্যাকাউন্টের বেশির ভাগই বেনামে রাজনৈতিক উপাধি ব্যবহার করেছে, কখনও তা ব্যঙ্গাত্মকভাবে। ১৯টি অ্যাকাউন্ট খাবার বা মসলা জাতীয় পণ্যের নামে। অনেক অ্যাকাউন্ট আবার শেখ রাসেল, নীল, নীরা নীরা ও হায়দার আহমাদ এর মতো নাম ব্যবহার করেছে। এগুলো সবই ভুয়া।
এই নেটওয়ার্কের কার্যক্রম রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করতে পারে। এটি জনমতকে বিভ্রান্ত করতে পারে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ক্ষুণ্ন করতে পারে।
এই বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং এই ধরনের কার্যক্রম রোধ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।



