দিনাজপুর জিলা স্কুল ও সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে মাধ্যমিক শিক্ষকদের কর্মবিরতির কারণে বার্ষিক পরীক্ষা বন্ধ হয়ে গেছে। এই কর্মবিরতির কারণে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে।
দিনাজপুর জিলা স্কুলের এক শিক্ষার্থীর বাবা সাইফুল ইসলাম বলেছেন, তার ছেলে জিলা স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র। আজ জীববিজ্ঞান বিষয়ে পরীক্ষা ছিল। হঠাৎ করে শুনেছেন পরীক্ষা বন্ধ। পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়াটা শিক্ষকদের উচিত হয়নি বলে মনে করেন।
বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক সমিতির (বাসমাশিস) ব্যানারে দিনাজপুর জিলা স্কুল ও সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এই কর্মবিরতি পালন করছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে সংগঠন থেকে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা।
বাসমাশিস ঘোষিত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— সহকারী শিক্ষক পদটিকে বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারভুক্ত করে মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক গেজেট প্রকাশ করা; বিদ্যালয় ও পরিদর্শন শাখায় কর্মরত শিক্ষকদের বিভিন্ন শূন্য পদে নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়ন দ্রুত কার্যকর করা; সুপ্রিম কোর্টের রায়ের আলোকে বকেয়া টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেডের মঞ্জুরি আদেশ ৩ কর্মদিবসের মধ্যে প্রদান করা এবং ২০১৫ সালের পূর্বের মতো সহকারী শিক্ষকদের ২ থেকে ৩টি ইনক্রিমেন্টসহ অগ্রিম বর্ধিত বেতন সুবিধা বহাল করা।
দিনাজপুর জিলা স্কুলের সহকারী শিক্ষক মমতাজউদ্দিন বলেছেন, ২৬ বছর ধরে শিক্ষকরা এই দাবি তুলে ধরছেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সরকার এই দাবি পূরণ করেনি। তাই শিক্ষকরা কর্মবিরতি পালন করছেন।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে এই কর্মবিরতির কারণে দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। তারা আশা করছেন সরকার শিক্ষকদের দাবি পূরণ করবে এবং শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে।
পাঠকদের জন্য প্রশ্ন: শিক্ষকদের কর্মবিরতির কারণে শিক্ষার্থীদের উপর কী প্রভাব পড়ে? শিক্ষকদের দাবি পূরণ করার জন্য সরকারকে কী করা উচিত?



