খুলনা অঞ্চলে এইচআইভি সংক্রমণের হার বাড়ছে। এই অঞ্চলে প্রতি বছর এইচআইভি পজিটিভ রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই সঙ্গে মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি সেন্টারে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ জন রোগী পরীক্ষা করাতে আসেন। এই সেন্টারে নতুন করে শনাক্ত হওয়া রোগীদের নিয়মিত কাউন্সেলিং ও বিনা মূল্যে ওষুধ দেওয়া হয়।
২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ১ হাজার ২৭৯ জনের রক্ত পরীক্ষা করে ১০০ জনকে নতুন করে শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮ জন শিশু। এ সময়ে মৃত্যুবরণ করেছেন ২৩ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ১৭ জন, নারী ৬ জন।
খুলনা জেনারেল হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত ৯ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৮ জন পুরুষ। এদের অনেকে জানান, অনিরাপদ যৌনসম্পর্কই সংক্রমণের কারণ।
খুলনা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রফিকুল ইসলাম গাজী বলেন, আক্রান্তদের বয়স ২৫ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। অনিরাপদ যৌনসম্পর্কই প্রধান কারণ। স্ক্রিনিংবিহীন রক্ত গ্রহণ করেও সংক্রমণ ছড়ায়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় এইডস/এসটিআই প্রোগ্রামের তথ্য অনুযায়ী, খুলনা অঞ্চলে এইচআইভি সংক্রমণের হার বাড়ছে। এই অঞ্চলে এইচআইভি পজিটিভ রোগীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই সঙ্গে মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে।
এইচআইভি সংক্রমণ রোধে সচেতনতা বাড়ানো এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এইচআইভি পজিটিভ রোগীদের জন্য নিয়মিত কাউন্সেলিং ও বিনা মূল্যে ওষুধ দেওয়া উচিত। এছাড়াও, স্ক্রিনিংবিহীন রক্ত গ্রহণ রোধ করা এবং অনিরাপদ যৌনসম্পর্ক এড়ানো জরুরি।
আমরা সকলকে এইচআইভি সংক্রমণ রোধে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। আসুন সবাই মিলে এইচআইভি সংক্রমণ রোধে কাজ করি।



