ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দুর্নীতি ও অন্যান্য মামলার বিচার থেকে অব্যাহতি চেয়ে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন করেছেন। তার দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চলমান এ বিচার দেশের সংহতিকে নষ্ট করছে। আবেদন দাখিলের পরপরই তেল আবিবজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
প্রেসিডেন্ট হারজগের কার্যালয় এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহুর চিঠিকে ‘নজিরবিহীন’ বলে উল্লেখ করে। ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন প্রকাশ্যে আসার পর রাতে প্রেসিডেন্ট হারজগের বাসভবনের সামনে হাজারো মানুষ জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করে। কেউ কেউ কয়েদিদের মতো কমলা পোশাক পরে এবং অনেকে কলার স্তূপ সাজিয়ে নেতানিয়াহুকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে উপস্থাপন করেন।
নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ঘুষ, জালিয়াতি ও আস্থা ভঙ্গের মোট তিনটি মামলায় বিচার চলছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ও তার স্ত্রী রাজনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে ধনকুবেরদের কাছ থেকে চুরুট, গয়না ও শ্যাম্পেনসহ ২ লাখ ৬০ হাজার ডলারের বেশি মূল্যের বিলাসসামগ্রী নিয়েছেন। পাশাপাশি নিজের পক্ষে ইতিবাচক সংবাদ কাভারেজের জন্য দুটি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে দেনদরবারের অভিযোগেও আরও দুটি মামলা রয়েছে।
এসব মামলা নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র বিভাজন তৈরি হয়েছে। নেতানিয়াহু ও তার সমর্থকদের দাবি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন এবং বিচার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ৭৬ বছর বয়সী নেতানিয়াহু ইসরায়েলের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্বপালনকারী প্রধানমন্ত্রী; ১৯৯৬ সালে প্রথমবার ক্ষমতায় এসে তিন মেয়াদে তিনি ১৮ বছরের বেশি সময় রাষ্ট্র পরিচালনা করেন। বর্তমান মেয়াদ শুরু হয় ২০২২ সালে।
সরকারবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম মুখ শিকমা ব্রেসলার বলেন, ‘তিনি কোনো দায়ভার না নিয়ে, দেশকে যেভাবে বিভক্ত করেছেন তার কোনো মূল্য না দিয়ে, বিচার বাতিল করতে চাইছেন। ইসরায়েলের ভবিষ্যত এখান ঝুঁকির মুখে।’ প্রেসিডেন্টের দপ্তর জানায়, নেতানিয়াহুর আইনজীবীদের পাঠানো ক্ষমার অনুরোধ তারা পেয়েছে এবং তা প্রকাশও করেছে।
নেতানিয়াহুর সাবেক আইনজীবী মাইকা ফেটম্যান জানিয়েছেন, আদালতে দোষ স্বীকার না করলে তার পক্ষে প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে ক্ষমা পাওয়া আইনগতভাবে অসম্ভব। তিনি বলেন, ‘ক্ষমা অপরাধীকেই দেওয়া হয়—আইনে সেটাই বলা আছে।’ এই ঘটনায় ইসরায়েলের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে। দেশটির ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
বিক্ষোভকারীরা নেতানিয়াহুর পদত্যাগ দাবি করছে। তারা বলছে, নেতানিয়াহুর ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়। তারা আরও বলছে, নেতানিয়াহুর এই আবেদন দেশের আইনব্যবস্থাকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের রাজনৈতিক নেতারা একটি সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। তারা আশা করছেন, এই সংকট শীঘ্রই সমাধান হবে।
এই ঘটনায় ইসরায়েলের জনগণ উদ্বিগ্ন। তারা আশা করছেন, দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি শীঘ্রই স্থিতিশীল হবে। তারা আরও আশা করছেন,



