বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের পথ ধরেছিল গণহত্যা। ১৯৭১ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে পাকিস্তানের সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খান ‘অপারেশন ব্লিটজ’ নামে একটি সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা করেন। এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল সামরিক শাসন জারি করে সামরিক বাহিনীকে ‘বিদ্রোহী’ রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে হেফাজতে নেওয়া।
পাকিস্তানের সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খান ১৯৭১ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে ‘অপারেশন ব্লিটজ’ নামে একটি সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা করেন। এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল সামরিক শাসন জারি করে সামরিক বাহিনীকে ‘বিদ্রোহী’ রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে হেফাজতে নেওয়া। এই উদ্দেশ্যে ৫৭ ব্রিগেডকে কোয়েটা থেকে করাচি আনা হয়। সংকেত পাওয়ামাত্র ঢাকার উদ্দেশে উড়াল দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে থাকে তারা।
৭ মার্চ পূর্ব পাকিস্তানের সামরিক আইন প্রশাসক হয়ে ঢাকায় আসেন টিক্কা খান। ১৭ মার্চ রাতে খাদিম হুসেইন রাজাকে ফোন করে ৫৭ ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলীকে নিয়ে কমান্ড হাউসে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে বলেন। এই সভায় চিফ অব স্টাফ জেনারেল আবদুল হামিদ খানও উপস্থিত ছিলেন। টিক্কা খান তাঁদের জানান, শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে আলোচনা ভালো এগোচ্ছে না। তাই প্রেসিডেন্ট চান সামরিক পদক্ষেপের জন্য তাঁরা যেন প্রস্তুত থাকেন এবং পরিকল্পনা তৈরি করে রাখেন।
পরদিন সারা সকাল অফিসে বসে ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর খসড়া তৈরি করেন খাদিম হুসেইন রাজা এবং রাও ফরমান আলী। শুরুতেই ঠিক হয়, ঢাকাসহ পূর্ব পাকিস্তানের প্রধান শহরগুলোয় বিশিষ্ট আওয়ামী লীগ নেতা, ছাত্রনেতৃবৃন্দ এবং বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের গ্রেপ্তার ও প্রয়োজনে হত্যা আর সামরিক আধা সামরিক ও পুলিশ বাহিনীর বাঙালি সদস্যদের নিরস্ত্র করে শেখ মুজিবের চলমান শাসনের অবসান ঘটানো হবে। সিদ্ধান্ত হয়, ঢাকায় অভিযানের নেতৃত্ব দেবেন রাও ফরমান আলী, আর অন্যান্য অঞ্চলে খাদিম হুসেইন রাজা। সে অনুযায়ী দুজন আলাদা দুটি পরিকল্পনা করেন।
সন্ধ্যায় কমান্ড হাউসে টিক্কা খান ও হামিদ খানের সামনে সেটি তুলে ধরেন রাজা। পরিকল্পনাটি তখনই অনুমোদিত হয়ে যায়, শুধু দিনক্ষণ অনির্ধারিত থাকে। ২৫ মার্চ সকালে সেটাও জানা হয়ে যায়। অভিযান শুরু হবে ২৬ মার্চ রাত একটায়। কিন্তু ঢাকার বিভিন্ন স্থানে বাঙালিরা ততক্ষণে প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তুলছে। তাই নির্ধারিত সময়ের আগেই অভিযান শুরু হয়।
এই অভিযানের ফলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু হয়। বাঙালিরা পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এই সংগ্রামের ফলে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হয়।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এই অভিযানের ফলে বাঙালিরা পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং স্বাধীনতা অর্জন করে।



