বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ৫৩ বছর পরেও অনেক গল্প অশ্রুত রয়ে গেছে। এই সিরিজের মাধ্যমে আমরা ১২টি গল্প তুলে ধরছি যেগুলো প্রতিরোধ, বীরত্ব এবং মাতৃভূমির জন্য আত্মত্যাগের কথা বলে। প্রথম পর্বে আমরা আবুরখিল গ্রামের কথা বলছি, যেখানে ১৯৭১ সালে শরণার্থী ও মুক্তিযোদ্ধারা আশ্রয় নিয়েছিলেন।
চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার আবুরখিল গ্রামটি দেশের বৃহত্তম বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের বাসস্থান এবং ১৯৭১ সালে একটি অঘোষিত মুক্ত এলাকা ছিল। এই গ্রামটি শরণার্থী ও মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছিল।
এপ্রিল মাসে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী চট্টগ্রাম দখল করার পর শরণার্থীরা আবুরখিলে আশ্রয় নিতে শুরু করে। ১৩ই এপ্রিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনী রাউজানে প্রবেশ করে এবং হিন্দু অধ্যুসিত গ্রামগুলোতে হামলা চালায়। এর ফলে হাজার হাজার হিন্দু শরণার্থী আবুরখিলে আশ্রয় নেয়।
আবুরখিলের মানুষ শরণার্থীদের জন্য তাদের বাড়িঘর খুলে দেয়। অনেক শরণার্থী পরে ভারতে চলে যায়, কিন্তু অনেকে আবুরখিলেই থেকে যায়। আবুরখিলের মানুষ যা করেছে তা ভুলে যাওয়া যায় না।
আবুরখিলের গল্প রকেয়া কবিরের ‘মুক্তিযুদ্ধ ও নারী’, জগন্নাথ বারুয়ার ‘মুক্তিযুদ্ধে বৌদ্ধদের অবদান’ এবং জামাল উদ্দিনের ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ও মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রাম’ বইতে লিপিবদ্ধ আছে।
আবুরখিলের মানুষ যা করেছে তা আজও অনুকরণীয়। তাদের সাহস ও মানবতাবোধ আমাদের সবাইকে অনুপ্রাণিত করে।
আবুরখিলের গল্প শুধু বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি অংশ নয়, বরং এটি মানবতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
আমরা আশা করি যে আবুরখিলের গল্প আমাদের সবাইকে মানবতার মূল্য সম্পর্কে শিক্ষা দেবে এবং আমাদেরকে একটি ভালো বিশ্ব গড়ার জন্য অনুপ্রাণিত করবে।



