নতুন বছর শুরু হতে যাচ্ছে এবং এটি আপনার আর্থিক পরিকল্পনা পর্যালোচনা করার সময়। ডিসেম্বর মাস হলো আপনার বিনিয়োগ পোর্টফোলিও গোছানোর সুযোগ। আপনার আয়-ব্যয়ের দিকটিও মাথায় রাখতে হবে। ভবিষ্যতে আপনার লক্ষ্য কী, কোন সম্পদ রাখবেন বা ছাড়বেন—সবকিছুই এখনই ঝালিয়ে নেওয়ার সময়।
প্রথমত, আপনার আয়-ব্যয়ের বাস্তব চিত্র বানান। নতুন বছরের শুরু থেকে মাসিক নগদ প্রবাহের হিসাব রাখুন। অপ্রয়োজনীয় খরচ শনাক্ত করে কমিয়ে আনুন। এটি আপনার বাজেটের ঘাটতি ঠেকাবে। এছাড়াও, জরুরি তহবিল গঠন করুন। সম্ভব হলে তিন থেকে ছয় মাসের ব্যয়ের সমপরিমাণ টাকা সঞ্চয় রাখুন। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে এটি সবচেয়ে কার্যকর সুরক্ষা।
উচ্চ সুদের ঋণ দ্রুত পরিশোধে গুরুত্ব দিন। এতে আপনার ওপর চাপ কমবে। দ্রুত ঋণের জাল থেকে বেরিয়ে যেতে পারবেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য-উপাত্ত অনুসারে, ব্যক্তি খাতে ঋণের চাপ বৃদ্ধির সঙ্গে শৃঙ্খলা জরুরি। দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় ও বিনিয়োগ নিশ্চিত করুন। আপনি হয়তো পাঁচ বছর পর একটি ফ্ল্যাট কিনবেন, এটি আপনার পরিকল্পনা বা লক্ষ্য। তাই লক্ষ্যের ভিত্তিতে স্থায়ী আমানত, সরকারি সঞ্চয়পত্র অথবা বাজারভিত্তিক বিনিয়োগ বেছে নিন।
কর পরিকল্পনা সাজান। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সীমা ও ছাড় বিবেচনায় সঞ্চয় বা বিনিয়োগ বেছে নিন। এতে আপনার করের পরিমাণ কমবে। আবার আপনার সঞ্চয়ও বাড়বে। মূল্যস্ফীতির প্রভাব হিসাব করুন। মূল্যস্ফীতি হঠাৎ কমে যায় না। তাই গত কয়েক মাসের মূল্যস্ফীতি বিবেচনা করে আগামী বছরের পরিকল্পনা করুন। সেভাবে মাসিক বাজেটে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করুন। ক্রয়ক্ষমতা ধরে রাখতে সঞ্চয় ও বিনিয়োগে নিয়মিত আপডেট রাখুন।
পারিবারিক ঝুঁকি-সুরক্ষা নিন। পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্যবিমা বা জীবনবিমার মতো সুরক্ষা পরিকল্পনা রাখুন, যাতে হঠাৎ টাকার প্রয়োজন হলে সঞ্চয় ভেঙে না যায়। দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নির্ধারণ করুন। শিক্ষা, বাড়ি কেনা, অবসর—যে লক্ষ্যই হোক না কেন। এ জন্য আলাদা তহবিল ও সময়সীমা ঠিক করে সঞ্চয় শুরু করুন। এই সমস্ত পরামর্শ মেনে চললে আপনি নতুন বছরে আর্থিকভাবে সুরক্ষিত থাকতে পারবেন।
অবশেষে, নতুন বছরের আর্থিক পরিকল্পনা করার সময় আপনার উচিত সতর্ক থাকা। আপনার আর্থিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া এবং আপনার আর্থিক স্বাস্থ্য বজায় রাখা। এই পরামর্শগুলি মেনে চললে আপনি নতুন বছরে আর্থিকভাবে সফল হতে পারবেন।



