গ্রীসে একটি সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাবের কারণে হাজার হাজার ভেড়া ও বকরি নিধন করা হচ্ছে। এর ফলে দেশটির বিখ্যাত ফেটা পনিরের উৎপাদন ও রফতানিতে প্রভাব পড়তে পারে।
গ্রীসের কেন্দ্রীয় অঞ্চলের থেসালি অঞ্চলের কার্ডিটসা শহরের পাশে একটি খামারে ভেড়া ও বকরির একটি বড় পাল ছিল। কিন্তু ১২ নভেম্বর ভেটেরিনারি কর্মকর্তারা ভেড়া ও বকরির পক্স রোগের একটি কেস শনাক্ত করার পর সমস্ত পশু নিধন করেছে।
এই রোগটি একটি ভাইরাল সংক্রমণ। গ্রীসের উত্তরাঞ্চলে ২০২৪ সালের আগস্টে প্রথম কেসটি শনাক্ত করা হয়েছিল। এরপর থেকে দেশটির অনেক অঞ্চলে এই রোগটি ছড়িয়ে পড়েছে।
গ্রীসের গ্রামীণ উন্নয়ন ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বর মাসের মধ্যে ১,৭০২টি ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। একটি খামারে একটি কেস শনাক্ত হলেই সমস্ত পশু নিধন করা হয়। এ পর্যন্ত ৪১৭,০০০ ভেড়া ও বকরি নিধন করা হয়েছে, যা আগের মোট সংখ্যার ৪-৫%।
গ্রীসের ভেড়া ও বকরির দুধের ৮০% ফেটা পনির তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। এই পনিরটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি সুরক্ষিত উৎপত্তি নাম। অর্থাৎ, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্য কোথাও এই ধরনের পনির তৈরি করা যায়, কিন্তু তা ফেটা নামে বিক্রি করা যাবে না।
গত বছর গ্রীস ৭৮৫ মিলিয়ন ইউরোর ফেটা পনির রফতানি করেছে। ভেড়া ও বকরি নিধনের ফলে ফেটা পনিরের ঘাটতি দেখা দিতে পারে, যা গ্রীসের অর্থনীতিকে প্রভাবিত করবে।
গ্রীসের কৃষকরা ভেড়া ও বকরি নিধনের ফলে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। এছাড়াও, এই রোগের ফলে দেশটির পশুসম্পদে প্রভাব পড়বে, যা দেশের অর্থনীতিকে প্রভাবিত করবে।
গ্রীসের সরকারকে ভেড়া ও বকরি নিধনের ফলে সৃষ্ট সমস্যা মোকাবেলার জন্য পদক্ষেপ নিতে হবে। এই রোগের বিস্তার রোধ করতে হলে দেশটির কৃষকদের সহায়তা করা প্রয়োজন। এছাড়াও, ফেটা পনিরের ঘাটতি মোকাবেলার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
গ্রীসের ভেড়া ও বকরি নিধনের ঘটনা দেশটির অর্থনীতিকে প্রভাবিত করবে। এই সমস্যা মোকাবেলার জন্য সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায়, দেশটির অর্থনীতি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।



