কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর রিভিউ আবেদন খারিজ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এই মামলায় ইনুর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ পুনর্বিবেচনা চেয়ে তিনি এই আবেদন করেছিলেন।
আজ রোববার ট্রাইব্যুনাল-২-এর সদস্য অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য হলেন জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
ইনুর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী ও আইনজীবী সিফাত মাহমুদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ইনু তাঁর আবেদনে জুলাই বিপ্লবকে সো-কল্ড বলেছেন। তিনি দাবি করেছেন, এই সরকার সবাইকে ইনডেমনিটি বা দায়মুক্তি দিচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অসত্য।
এর আগে গত ২৭ নভেম্বর এই রিভিউ আবেদনটি করেন হাসানুল হক ইনু। আবেদনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে ‘সো-কল্ড’ হিসেবে অভিহিত করা হয় এবং বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের আইন প্রণয়নের ক্ষমতা নেই বলে উল্লেখ করা হয়। বিষয়টি নিয়ে ওই দিনই তীব্র আপত্তি জানায় প্রসিকিউশন।
রিভিউ খারিজ হয়ে যাওয়ায় এই মামলায় ইনুর বিচার কার্যক্রম চলতে আর কোনো বাধা রইল না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আজকের দিনটিই ধার্য ছিল।
এর আগে গত ২ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল-২-এর তৎকালীন চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল ইনুর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিলেন। সেদিন আদালতে ইনুর বিরুদ্ধে আনা আটটি অভিযোগ পড়ে শোনানো হলে তিনি নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করেন। তাঁর আইনজীবী অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আবেদন জানালেও ট্রাইব্যুনাল তা নাকচ করে দেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ইনু আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে টিভি চ্যানেলে বক্তব্য দেন। তিনি আন্দোলনকারীদের বিএনপি সমর্থক বলে অভিহিত করেন। এই মামলায় ইনুর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো প্রমাণিত হলে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হতে পারে।
এই মামলার বিচার কার্যক্রম চলতে থাকবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। এই মামলায় ইনুর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো প্রমাণিত হলে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হতে পারে।



