20 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাসাভারের ট্যানারি শ্রমিকদের ৭৭ শতাংশের বেতন ন্যূনতম মজুরির নিচে

সাভারের ট্যানারি শ্রমিকদের ৭৭ শতাংশের বেতন ন্যূনতম মজুরির নিচে

সাভারের হেমায়েতপুর ট্যানারি শিল্প এলাকায় কর্মরত শ্রমিকদের মধ্যে ৭৭ শতাংশের বেতন সরকার নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরির চেয়েও কম। এছাড়াও ৮৬ শতাংশ শ্রমিকের কোনো লিখিত নিয়োগপত্র নেই এবং প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ শ্রমিকই অস্থায়ী ভিত্তিতে কাজ করছেন। সলিডারিটি সেন্টার ও বাংলাদেশ ট্যানারি শ্রমিক ইউনিয়নের যৌথ সমীক্ষায় এই চিত্র উঠে এসেছে।

সমীক্ষায় দেখা গেছে, মাত্র এক-পঞ্চমাংশ শ্রমিক বেতন স্লিপ পান। বেশিরভাগ শ্রমিক অভিযোগ করেছেন, তাদের মজুরি অনিয়মিত বা বিলম্বিতভাবে দেওয়া হয়। শ্রমঘণ্টার ক্ষেত্রেও ভয়াবহ অনিয়ম চলছে—৪২ শতাংশ শ্রমিক দিনে ১০ ঘণ্টার বেশি কাজ করেন ও প্রায় ৩৩ শতাংশ শ্রমিককে সপ্তাহের সাতদিনই কাজ করতে বাধ্য করা হয়।

সমীক্ষা বলছে, মাত্র এক-তৃতীয়াংশ শ্রমিক নিয়মিত ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) পান। ৫৮ শতাংশ শ্রমিককে সঠিক পিপিই ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয় না ও ৭৭ শতাংশ শ্রমিক কখনোই কোনো আনুষ্ঠানিক স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা প্রশিক্ষণ পাননি। শ্রমিকরা কারখানার ভেতরে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের অভাব, তীব্র দুর্গন্ধ, জলাবদ্ধতা ও দুর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন।

সমীক্ষা অনুযায়ী, ৮৫ শতাংশ নারী শ্রমিক মাতৃত্বকালীন ছুটি বা সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এছাড়া এক-তৃতীয়াংশ নারী কারখানায় নিরাপদ ও পৃথক টয়লেট সুবিধার অভাব বোধ করেন। কর্মস্থলে অভিযোগ জানানোর ক্ষেত্রেও শ্রমিকদের মধ্যে ভীতি ও অনিশ্চয়তা কাজ করে। ৪৩ শতাংশ শ্রমিক দুর্ব্যবহারের শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতা জানালেও চাকরি হারানোর ভয়ে অভিযোগ করতে সাহস পান না।

তবে ইউনিয়নভুক্ত কারখানাগুলোর পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে ভালো বলেও সমীক্ষায় উঠে এসেছে। সলিডারিটি সেন্টারের কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর একেএম নাসিম বলেন, এই ছায়া পরিদর্শনের মাধ্যমে দেখা গেছে যে হাজারীবাগ থেকে হেমায়েতপুরে স্থানান্তরিত হওয়ার পরও শ্রমিকরা একই রকম কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন। বিপুল সংখ্যক শ্রমিককে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ এবং ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়নে ব্যর্থতাই প্রধান কারণ।

এই পরিস্থিতির উন্নতির জন্য সরকার ও কারখানা মালিকদের সক্রিয় ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন। শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা ও তাদের কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। এছাড়াও শ্রমিকদের সচেতনতা বৃদ্ধি ও তাদের অধিকার সম্পর্কে জানানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

শেষ পর্যন্ত, শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা ও তাদের কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সকল স্টেকহোল্ডারদের একসাথে কাজ করা প্রয়োজন। এই সমস্যার সমাধান করার জন্য সরকার, কারখানা মালিক, শ্রমিক ইউনিয়ন ও অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের সমন্বিত প্রচেষ্টা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastream
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments