শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরার জানিয়েছেন, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় প্রকৃত প্রাপ্ত নম্বরই প্রদান করার নীতি ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে। তিনি বলেছেন, যোগ্যতার সঠিক মূল্যায়ন ছাড়া শিক্ষার মানোন্নয়ন অসম্ভব। তাই নম্বর বাড়ানোর সংস্কৃতি কখনোই ফিরে আসবে না।
শনিবার ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষা উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। এতে বৃহত্তর ফরিদপুর-রাজবাড়ী-গোপালগঞ্জ অঞ্চলের শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষা-অংশীজনসহ শতাধিক ব্যক্তি অংশ নেন।
শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকার দেশব্যাপী অংশীজনদের সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপ পরিচালনা করছে। আজকের আলোচনায় উত্থাপিত প্রস্তাব ও উদ্বেগ আমাদের নীতি প্রণয়নে মূল্যবান দিকনির্দেশনা দেবে।
শিক্ষা উপদেষ্টা জানান, অতীতে শিক্ষক কল্যাণ তহবিল ও অবসরকালীন সুবিধা পরিচালনায় মারাত্মক অব্যবস্থাপনার কারণে উদ্বেগজনক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, ডায়ালিসিস, ক্যানসারসহ গুরুতর রোগে আক্রান্ত শিক্ষক বছরের পর বছর তাঁদের প্রাপ্য অর্থ না পাওয়া অমানবিক। আমরা এর দ্রুত সমাধানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিচ্ছি।
গুণগত শিক্ষার জন্য সামগ্রিক সংস্কারের ঘোষণা দিয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, শিক্ষকতার মর্যাদা ও পেশাগত উন্নয়নে নতুন উদ্যোগ চলছে। জাল সনদ, নোটবই নির্ভরতা, প্রাইভেট টিউশনসহ দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা উপদেষ্টা আরও বলেন, পাঠাগার পুনরুজ্জীবন, ছাত্র মূল্যায়নব্যবস্থার পুনর্গঠন এবং শিক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাবলিক ও প্রাইভেট শিক্ষার মানের বৈষম্য কমাতে সরকার কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে শিক্ষা উপদেষ্টা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশকে দলীয় রাজনীতি থেকে মুক্ত রাখতে হবে। যাঁরা রাজনীতি করতে চান, তাঁরা রাজনীতিতেই যুক্ত হোন; কিন্তু শ্রেণিকক্ষের নিরপেক্ষতা অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।
শিক্ষা উপদেষ্টার এই ঘোষণা শিক্ষা খাতে এক নতুন দিক নির্দেশ করছে। এই উদ্যোগ শিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়। শিক্ষার্থীদের উচিত এই সুযোগকে কাজে লাগানো এবং নিজেদেরকে গুণগত শিক্ষার জন্য প্রস্তুত করা।
পাঠকদের জন্য প্রশ্ন: শিক্ষা উপদেষ্টার এই ঘোষণার পর আপনি কী আশা করছেন? আপনি কীভাবে শিক্ষার মানোন্নয়নে অবদান রাখতে পারেন?



